স্কিন কেয়ার

শসা দিয়ে রূপচর্চা করার সহজ উপায় এবং নিয়ম

প্রত্যেকেই একটি উজ্জ্বল মুখ পেতে চায়। সাধারণত শসা সর্বাধিক ব্যবহৃত হয় সালাদে এবং ফেস মাস্ক হিসাবে। এতে উপস্থিত পুষ্টিগুণ ত্বককে পুনরুজ্জীবিত করতে সহায়ক। তাই এই পোস্টে আমরা মুখে শসা লাগানোর উপকারিতা এবং 19 ধরনের শসার ফেসপ্যাকের কথা বলছি। আপনি আপনার ত্বকের ধরন এবং এর প্রয়োজন অনুযায়ী শসার ফেসপ্যাক ব্যবহার করতে পারেন।

নিচে জেনে নিন শসার ফেসপ্যাক কীভাবে ত্বকে কাজ করে।

Contents

শসা দিয়ে রূপচর্চা

এখানে আমরা মুখে শসা লাগানোর উপকারিতার পাশাপাশি শসার ফেসপ্যাক তৈরিতে ব্যবহৃত ঘরোয়া উপাদান সম্পর্কেও তথ্য দেব। শুধু মনে রাখবেন যে সমস্ত ফেসপ্যাক সংবেদনশীল ত্বকের জন্য অ্যালার্জি প্রবণ। এমন পরিস্থিতিতে শসার ফেসপ্যাক ব্যবহারের আগে একবার আপনার ত্বকে প্যাচ টেস্ট করে নিন।

অ্যালোভেরা এবং শসার ফেসপ্যাক

উপাদান:

  • এক টেবিল চামচ অ্যালোভেরা জেল বা জুস
  • এক চতুর্থাংশ গ্রেট করা শসা

ব্যবহারবিধি: গ্রেট করা শসার সাথে অ্যালোভেরা জেল বা রস যোগ করুন এবং এটি ভালভাবে মেশান। এবার এই মিশ্রণটি মুখে ও ঘাড়ে লাগান। প্রায় 15 মিনিট পর গরম পানি দিয়ে এই প্যাকটি ধুয়ে ফেলুন।

কতটা লাভজনক: মুখের জন্য শসা খুবই উপকারী। এতে উপস্থিত ভিটামিন এ, সি এবং অন্যান্য অ্যান্টিঅক্সিডেন্টের কারণে শসা ত্বকে প্রশান্তিদায়ক এবং ময়শ্চারাইজিং প্রভাব ফেলে। এছাড়াও এটি ত্বকের পুনরুজ্জীবনে অবদান রাখে। এছাড়াও, এটি মেলানিনের উৎপাদন কমাতে পারে, যার কারণে ত্বকের রঙ কালো হয়। এই বৈশিষ্ট্যগুলির কারণে, শসা ত্বকের যত্নের বিভিন্ন পণ্যগুলিতে ব্যবহৃত হয়, যেমন টোনার, লোশন এবং ত্বকের ক্রিম।

রোদে পোড়া দাগ কমিয়ে ত্বকে উপস্থিত টক্সিন দূর করতেও শসা সহায়ক। এছাড়াও, অ্যালোভেরার অ্যান্টি-এজিং এবং ময়েশ্চারাইজিং বৈশিষ্ট্য রয়েছে, যা আর্দ্রতা ধরে রেখে ত্বককে তারুণ্যময় করে তুলে। শুধু তাই নয়, শসা সূর্যের ক্ষতিকর রশ্মি থেকেও রক্ষা করতে পরিচিত। অ্যালোভেরার উপকারিতা ব্রণ এবং সূক্ষ্ম রেখা কমাতে কাজ করে। অ্যালোভেরাতে উপস্থিত অ্যালোয়েসিন যৌগ ত্বককে উজ্জ্বল করার এজেন্ট হিসেবে কাজ করে।

বাদাম এবং শসার ফেসপ্যাক

উপাদান:

  • 1 টেবিল চামচ বাদাম মাখন/পাউডার/তেল
  • এক চতুর্থাংশ শসা

ব্যবহারবিধি: শসার খোসা ছাড়িয়ে ছোট ছোট টুকরো করে কেটে নিন। এবার এতে বাদাম মাখন, তেল বা গুঁড়া দিয়ে ভালো করে মিশিয়ে নিন। মিশ্রণটি তৈরি হয়ে গেলে মুখে লাগান এবং ১০ মিনিট পর ধুয়ে ফেলুন।

কতটা লাভজনক: বাদাম ত্বকে এক্সফোলিয়েন্ট হিসেবে ব্যবহার করা হয়। এটি মুখে উপস্থিত ময়লা পরিষ্কার করে মুখের গভীর পরিস্কারে সাহায্য করে। এর সাথে, বাদাম মুখমণ্ডল উন্নত করতেও পরিচিত। বাদাম তেল দিয়ে ত্বকে ম্যাসাজ করলে ত্বকের উন্নতির পাশাপাশি সূর্যের ক্ষতিকর রশ্মি থেকে রক্ষা পাওয়া যায়। এর সাথে শসার গুণাগুণ একত্রিত হলে এটি প্যাকড এবং কার্যকরী হয়ে ওঠে। আমরা ইতিমধ্যে উপরে উল্লেখ করেছি যে শসার ব্যবহার রোদে পোড়া, কালো রঙ, ব্রণ এবং বার্ধক্যের মতো সমস্যাগুলি কমায়।

বেসন এবং শসার ফেসপ্যাক

উপাদান:

  • 2 চা চামচ বেসন
  • 2 থেকে 3 টেবিল চামচ শসার রস

ব্যবহারবিধি: বেসন এর সাথে শসার রস যোগ করে একটি মসৃণ পেস্ট তৈরি করুন। এবার এই পেস্টটি মুখে ও ঘাড়ে সমানভাবে লাগান। প্রায় 20 মিনিট রাখুন, মুখ শুকিয়ে যাওয়ার পরে হালকা গরম জল দিয়ে ধুয়ে ফেলুন।

কতটা লাভজনক: বেসন প্রায়শই সৌন্দর্য বর্ধক পণ্য হিসাবে ব্যবহৃত হয়। বেসন স্কিন টনিক হিসাবে উপকারী, কারণ এতে ত্বক পরিষ্কার এবং এক্সফোলিয়েটিং বৈশিষ্ট্য রয়েছে। এটি ত্বকের ট্যানিং কমাতেও পরিচিত। এটি ত্বকে উপস্থিত তেল পরিষ্কার করে অ্যান্টি-পিম্পল হিসেবেও কাজ করে। এছাড়াও, বেসনের মধ্যে উপস্থিত ফর্সা এজেন্টগুলি ত্বকের বর্ণকেও হালকা করতে পারে। শুধু শুষ্ক ত্বকের সাথে এটি ব্যবহার করবেন না বা দইয়ের সাথে মিশ্রিত করবেন না।

দই এবং শসার ফেসপ্যাক

উপাদান:

  • এক চতুর্থাংশ শসা
  • 2 টেবিল চামচ টক দই/দই

ব্যবহারবিধি: শসা গ্রেট করে এর পাল্প বের করে নিন। এবার শসার পাল্পে দই দিয়ে ভালো করে মিশিয়ে নিন। এই পেস্টটি আপনার মুখে লাগান এবং 15 মিনিট পর হালকা গরম পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। তেল মুক্ত এবং ব্রণ মুক্ত ত্বক পেতে এই শসার ফেসপ্যাক কার্যকর।

কতটা লাভজনক: দইয়ে অনেক ধরনের ঔষধি গুণ পাওয়া যায়, যা ত্বকের জন্য উপকারী। একটি গবেষণা অনুসারে, দই ব্যবহার করলে ত্বকের স্থিতিস্থাপকতা উন্নত হয়। এছাড়াও, এটি ত্বকের আর্দ্রতা ধরে রাখতে কার্যকর। এছাড়াও, এটি ত্বককে উজ্জ্বল করার জন্য দরকারী। শসার সাথে দই মিশিয়ে ফেসপ্যাক হিসেবে ব্যবহার করলে বেশি উপকার পাওয়া যায়। এই ফেসপ্যাকটি সংবেদনশীল ত্বকের জন্যও উপযুক্ত।

আরো পড়ুনঃ টক দই খাওয়ার উপকারিতা ও অপকারিতা এবং নিয়ম

গাজর এবং শসার ফেসপ্যাক

উপাদান:

  • তাজা গাজরের রস এক চামচ
  • এক চামচ শসার পেস্ট
  • এক চা চামচ টক দই

ব্যবহারবিধি: তাজা গাজরের রস বের করে তাতে শসার পেস্ট যোগ করুন। উভয় উপাদান ভালভাবে মিশ্রিত করার পরে, ক্রিম যোগ করুন। মিশ্রণটি তৈরি হয়ে গেলে মুখে ও ঘাড়ে ভালো করে লাগান। প্রায় 15 থেকে 20 মিনিট পর হালকা গরম পানি দিয়ে এই ফেসপ্যাকটি ধুয়ে ফেলুন।

কতটা লাভজনক: শসার পাশাপাশি ত্বকের জন্য গাজরের ব্যবহারও উপকারী। আসলে এতে বিটা ক্যারোটিন পাওয়া যায়। বিটা-ক্যারোটিনের একটি ফটোপ্রোটেক্টিভ প্রভাব রয়েছে, যা ত্বককে সূর্যের ক্ষতিকর রশ্মি থেকে রক্ষা করে। এছাড়াও, গাজরে পাওয়া লাইকোপিন ত্বককে রোদে পোড়া এবং অক্সিডেটিভ ক্ষতি থেকে রক্ষা করতে সাহায্য করে।

টমেটো এবং শসার ফেসপ্যাক

উপাদান:

  • এক চতুর্থাংশ শসা
  • অর্ধেক পাকা টমেটো

ব্যবহারবিধি: শসার খোসা ছাড়িয়ে টমেটোর সাথে কষিয়ে নিন। এই পেস্টটি মুখে ও ঘাড়ে লাগান। এরপর প্রায় এক বা দুই মিনিট মুখে ম্যাসাজ করুন। তারপর ১৫ মিনিট পর ঠান্ডা পানি দিয়ে মুখ ধুয়ে ফেলুন।

কতটা লাভজনক: টমেটোর ব্যবহার ত্বকের জন্য নানাভাবে উপকারী। এতে ভিটামিন-এ এবং সি পাওয়া যায়। এই উপাদানগুলি ত্বককে সংক্রমণ থেকে রক্ষা করার পাশাপাশি সুস্থ রাখে। এতে উপস্থিত ভিটামিন-সি ত্বকের তারুণ্য ধরে রাখতে সাহায্য করে এবং বার্ধক্যের লক্ষণ কমিয়ে ফাইন লাইন রোধ করে। এছাড়া এটি সূর্যের ক্ষতিকর রশ্মি থেকেও ত্বককে রক্ষা করে।

আলু এবং শসার ফেসপ্যাক

উপাদান:

  • 1 টেবিল চামচ আলুর রস
  • 1 চা চামচ শসার রস
  • সুতি পশম

ব্যবহারবিধি: আলুর রসে শসার রস যোগ করুন এবং এটি ভালভাবে মেশান। এবার তুলোর সাহায্যে টোনারের মতো মুখে লাগান। প্রায় 10 থেকে 15 মিনিট পর ধুয়ে ফেলুন।

কতটা লাভজনক: আলুর ব্যবহার ত্বককে উজ্জ্বল করে তুলে। প্রকৃতপক্ষে, এতে ভিটামিন সি রয়েছে, যার অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট প্রভাব টিস্যুর বৃদ্ধিকে উদ্দীপিত করে, যা ত্বকের ক্ষতগুলি আরও দ্রুত নিরাময় করে। আলুতে উপস্থিত ভিটামিন সি, বি-কমপ্লেক্স, পটাশিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম, ফসফরাস এবং জিঙ্ক ত্বকের জন্য ভালো। এর পাশাপাশি আলু ব্রণের সমস্যা দূর করে এবং দাগ সারাতেও সাহায্য করে। এছাড়াও, আলু ত্বককে নরম ও পরিষ্কার করতে উপকারী।

মধু এবং শসার ফেসপ্যাক

উপাদান:

  • এক চামচ ওটস
  • 1 টেবিল চামচ শসার পেস্ট
  • আধা চা চামচ মধু

ব্যবহারবিধি: শসার পেস্টে ওটস যোগ করুন এবং এটি ভালভাবে মেশান। এবার এই মিশ্রণে মধু যোগ করে মিক্স করুন। পেস্টটি আপনার মুখে লাগান এবং 15 মিনিট পর হালকা গরম পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন।

কতটা লাভজনক: মধুতে অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি এবং অ্যান্টি-মাইক্রোবিয়াল বৈশিষ্ট্য রয়েছে। এগুলি ব্যাকটেরিয়া দ্বারা সৃষ্ট ব্রণ এবং প্রদাহ কমাতে পারে । NCBI-তে উপস্থিত একটি গবেষণা অনুসারে, মধু মুখ পরিষ্কার এবং ময়শ্চারাইজ করতেও সহায়ক। এছাড়াও , মধু ব্যবহার ত্বকের আর্দ্রতা ধরে রাখে। এতে উপস্থিত ওটস-এর মধ্যে রয়েছে প্রদাহ-বিরোধী এবং পরিষ্কারক বৈশিষ্ট্যের পাশাপাশি প্রশান্তিদায়ক উপাদান, যা ত্বককে যেকোনো ধরনের ব্যথা এবং জ্বালা থেকে মুক্তি দিতে পারে।

লেবু এবং শসার ফেসপ্যাক

উপাদান:

  • তিন টেবিল চামচ শসার রস
  • আধা থেকে এক চা চামচ লেবুর রস
  • সুতি পশম

ব্যবহারবিধি: উভয় রস মিশিয়ে একটি পেস্ট প্রস্তুত করুন। এবার তুলোর সাহায্যে মুখে ও ঘাড়ে লাগান। প্রায় 15 মিনিট পর ঠান্ডা জল দিয়ে ধুয়ে ফেলুন।

কতটা লাভজনক: এই লেবুযুক্ত মাস্কটি অক্সিডেটিভ স্ট্রেস দ্বারা সৃষ্ট বার্ধক্য কমায়। লেবুর নির্যাস ত্বক-উজ্জ্বলকারী ক্রিমগুলিতে একটি শক্তিশালী ব্লিচিং এজেন্ট হিসাবে ব্যবহৃত হয়, যা ত্বককে উজ্জ্বল করতে এবং দাগ দূর করতে সহায়ক। এছাড়াও, লেবুর রস এবং শসা রাতে ত্বকে ব্যবহার করা যেতে পারে মুখের ত্বককে মসৃণ করতে এবং ব্রণের চিকিৎসার জন্য।

আরো পড়ুনঃ লেবুর উপকারিতা ও অপকারিতা

ডিম এবং শসার ফেসপ্যাক

উপাদান:

  • অর্ধেক শসা
  • একটি ডিম (সাদা অংশ)

ব্যবহারবিধি: শসা গ্রেট করে তাতে ডিমের সাদা অংশ মিশিয়ে ভালো করে মিশিয়ে নিন। এবার মুখে ও ঘাড়ে সমানভাবে লাগান। প্রায় 20 মিনিট পর হালকা গরম পানি দিয়ে মুখ ধুয়ে ফেলুন।

কতটা লাভজনক: গবেষণা অনুযায়ী, শসার সঙ্গে ডিমের ব্যবহার ত্বককে কোমল করে এবং ব্রণের সমস্যা থেকে মুক্তি দেয়। আসলে ডিমে প্রোটিন থাকে। প্রোটিন ত্বককে স্বাস্থ্যকর এবং সুন্দর করে তুলতে পারে পাশাপাশি ত্বকের হাইপারপিগমেন্টেশন কমায়। ডিমে উপস্থিত সাদা রঙের ঝিল্লি সূর্যের ক্ষতিকারক রশ্মি দ্বারা সৃষ্ট ক্ষতি দূর করার পাশাপাশি বলিরেখা প্রতিরোধে সহায়ক।

আরো পড়ুনঃ শসার উপকারিতা ও অপকারিতা, ডিম খাওয়ার উপকারিতা ও অপকারিতা

কমলা এবং শসার ফেসপ্যাক

উপাদান:

  • অর্ধেক শসা
  • এক থেকে দুই চা চামচ কমলার রস বা কমলার খোসার গুঁড়া

ব্যবহারবিধি: শসা ব্লেন্ড করে তাতে কমলার রস বা গুঁড়া যোগ করুন। এবার এই মিশ্রণটি মুখে লাগান। প্রায় 15 মিনিট পর ধুয়ে ফেলুন। এই মাক্সটি ত্বক উজ্জ্বল এবং পরিষ্কারের জন্য ব্যবহার করুন।

কতটা লাভজনক: কমলার ব্যবহার ত্বকের জন্যও উপকারী। এতে উপস্থিত অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এবং অ্যান্টি-এনজাইমেটিক বৈশিষ্ট্যগুলি ত্বকে দৃশ্যমান বার্ধক্যের লক্ষণগুলি হ্রাস করে অ্যান্টি-এজিং হিসাবে কাজ করে। কমলালেবুতে উপস্থিত ভিটামিন সি সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মির কারণে হওয়া ক্ষতি থেকে ত্বককে রক্ষা করে। ভিটামিন-সি এর পরিমাণ ত্বকে দাগ পড়া রোধ করে।

আরো পড়ুনঃ কমলার খোসার ফেসপ্যাক বানানোর নিয়ম, কমলা খাওয়ার উপকারিতা

নারকেল তেল এবং শসার ফেসপ্যাক

উপাদান:

  • অর্ধেক শসা
  • এক চা চামচ নারকেল তেল

ব্যবহারবিধি: শসা গ্রেট করে তাতে নারকেল তেল দিন। তারপর এই পেস্টটি মুখে ভালো করে লাগান। প্রায় 15 মিনিট পর হালকা গরম পানি দিয়ে ত্বক ধুয়ে ফেলুন।

কতটা লাভজনক: নারকেল তেলে উপস্থিত ময়েশ্চারাইজিং বৈশিষ্ট্য ত্বকের আর্দ্রতা ধরে রাখতে পারে। এই বৈশিষ্ট্যটি ত্বকের রোগ যেমন ফুসকুড়ি, প্রদাহ যেমন একজিমা নিরাময়ে সহায়ক। নারকেল তেল দিয়ে মুখে ম্যাসাজ করলে ট্যান থেকে মুক্তি পাওয়া যায়। এ ছাড়া নারকেল তেলের ব্যবহার সূর্যের ক্ষতিকর রশ্মি থেকেও রক্ষা করে।

আরো পড়ুনঃ স্বাস্থ্য ও সৌন্দর্যে নারিকেল তেলের উপকারিতা

শসা এবং দুধের ফেসপ্যাক

উপাদান:

  • দুই চামচ শসার পেস্ট
  • এক চামচ দুধ

ব্যবহারবিধি: সব উপকরণ মিশিয়ে পেস্ট তৈরি করুন। এবার এই মিশ্রণটি আপনার ত্বকে লাগান। প্রায় 20 মিনিট পর হালকা গরম পানি দিয়ে মুখ ধুয়ে ফেলুন।

কতটা লাভজনক: যারা পরিষ্কার ও উজ্জ্বল ত্বক চান তারা দুধ ব্যবহার শুরু করতে পারেন । দুধে উপস্থিত অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল বৈশিষ্ট্য ব্রণের ব্যাকটেরিয়া দূর করে। এ জন্য দুধ পানের পাশাপাশি মুখেও লাগান। প্রতিদিন দুধের ব্যবহার ত্বকে উজ্জ্বলতা আনে, ত্বককে তরুণ দেখায়, সান ট্যান প্রতিরোধ করে এবং মুখের দাগ কমাতে পারে। এছাড়াও, দুধের গুঁড়া ত্বককে হাইড্রেট করতে এবং ব্ল্যাকহেডস এবং হোয়াইটহেডস পরিষ্কার করতেও উপকারী।

আরো পড়ুনঃ মিল্ক ফেসিয়াল: দুধ দিয়ে ত্বকের যত্ন

শসা এবং বেকিং সোডা ফেসপ্যাক

উপাদান:

  • 1 চা চামচ তাজা শসার রস
  • এক চা চামচ বেকিং সোডা

ব্যবহারবিধি: শসা গ্রেট করুন এবং তা থেকে তাজা রস বের করুন। এবার এই রসে বেকিং সোডা মিশিয়ে ভালো করে মিশিয়ে নিন। মুখে এই মাস্কটি লাগানোর ৫ থেকে ১০ মিনিট পর ধুয়ে ফেলুন।

কতটা লাভজনক: বেকিং সোডা ব্যবহার মুখের জন্য ভালো। প্রকৃতপক্ষে, এটি মুখের চুলকানি কমায়। এর সাথে, বেকিং সোডা ত্বকে উপস্থিত তেল পরিষ্কার করতে এবং এতে উপস্থিত অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল বৈশিষ্ট্যের কারণে ব্রণ দূর করতেও উপকারী।

শসা এবং হলুদ ফেসপ্যাক

উপাদান:

  • অর্ধেক শসা
  • এক চিমটি হলুদ
  • এক চা চামচ লেবুর রস

ব্যবহারবিধি: শসা ম্যাশ করে পেস্ট তৈরি করুন। এবার এতে হলুদ ও লেবুর রস দিয়ে ভালো করে মিশিয়ে নিন। এই মিশ্রণটি মুখে লাগিয়ে ১৫ মিনিট পর হালকা গরম পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন।

কতটা লাভজনক: হলুদে উপস্থিত কারকিউমিন যৌগ অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি, অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়াল এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট বৈশিষ্ট্যে সমৃদ্ধ। এই বৈশিষ্ট্যটি ত্বক পরিষ্কার করার পাশাপাশি ব্রণ থেকে মুক্তি পেতে সহায়ক। এছাড়াও, হলুদ সূর্যের ক্ষতিকারক রশ্মি দ্বারা সৃষ্ট ক্ষতি থেকে ত্বককে রক্ষা করে, পাশাপাশি সোরিয়াসিস এর মতো সংক্রমণ এবং ত্বক সম্পর্কিত সমস্যা থেকে মুক্তি দেয়।

অ্যাভোকাডো এবং শসা ফেসপ্যাক

উপাদান:

  • কাপ অ্যাভোকাডো সজ্জা
  • দুই টেবিল চামচ শসার রস

ব্যবহারবিধি: অ্যাভোকাডো পাল্প এবং শসার রস মিশিয়ে পেস্ট তৈরি করুন। এবার পেস্টটি মুখে লাগিয়ে ১৫ থেকে ২০ মিনিট রেখে দিন। তারপর পানি দিয়ে মুখ ধুয়ে ময়েশ্চারাইজ করুন।

কতটা লাভজনক: অ্যাভোকাডোর ব্যবহারও ত্বকের জন্য নানাভাবে উপকারী। এতে উপস্থিত প্রয়োজনীয় ফ্যাটি অ্যাসিড ত্বকে বার্ধক্যের লক্ষণগুলিকে কমিয়ে দেয়। অ্যাভোকাডো তেলের ব্যবহার ত্বকে কোলাজেন (এক ধরনের প্রোটিন) উন্নীত করে, যা ত্বককে তারুণ্যময় করে তুলে। অ্যাভোকাডো তেলের ব্যবহার বলিরেখা নিরাময়ে এবং ক্ষত নিরাময়ের জন্য উপকারী।

আপেল এবং শসা ফেসপ্যাক

উপাদান:

  • অর্ধেক শসা
  • অর্ধেক আপেল
  • এক টেবিল চামচ ওটস

ব্যবহারবিধি: শসা এবং আপেল কেটে ম্যাশ করুন। এবার এতে ওটস যোগ করে ব্লেন্ড করে নরম পেস্ট তৈরি করুন। আপনার মুখ এবং ঘাড়ে প্রস্তুত পেস্ট প্রয়োগ করুন। ২০ মিনিট পর পানি দিয়ে মুখ ধুয়ে ফেলুন।

কতটা লাভজনক: ত্বকের জন্যও আপেলের উপকারি। আপেলে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট বৈশিষ্ট্য রয়েছে, যা ত্বকে অ্যান্টি-এজিং প্রভাব দেখায়। এটি বলির মতো সমস্যাগুলি প্রতিরোধ করে। অ্যান্টিঅক্সিডেন্টের পাশাপাশি, আপেল ভিটামিন সি সমৃদ্ধ, যা বার্ধক্যের লক্ষণ এবং বলিরেখা প্রতিরোধ করে এবং ত্বককে উজ্জ্বল করে।

আরো পড়ুনঃ স্বাস্থ্যের জন্য আপেলের উপকারিতা ও অপকারিতা,

তরমুজ এবং শসার ফেসপ্যাক

উপাদান:

  • এক টেবিল চামচ তরমুজের পাল্প
  • 1 টেবিল চামচ শসার পাল্প

ব্যবহারবিধি: দুটি উপাদানই ভালো করে মিশিয়ে নিন। এবার এই মিশ্রণটি মুখে ও ঘাড়ে লাগান। এটি ত্বকে 15 মিনিটের জন্য রেখে দিন। এরপর ঠান্ডা পানি দিয়ে ত্বক ধুয়ে ফেলুন।

কতটা লাভজনক: ত্বকের জন্য তরমুজ ব্যবহারের অন্যতম উপকারিতা হল বার্ধক্যজনিত কিছু লক্ষণ কমায়। এতে উপস্থিত লাইকোপিন ত্বকের জন্য উপকারী। এই লাইকোপিন একটি কার্যকর অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, যা শরীরকে মুক্ত র‌্যাডিক্যাল থেকে রক্ষা করে এবং বার্ধক্য প্রক্রিয়াকে ধীর করে দিতে পারে।

মুলতানি মাটি এবং শসার ফেসপ্যাক

উপাদান:

  • দুই টেবিল চামচ শসার রস
  • এক টেবিল চামচ গোলাপ জল
  • এক বা দুই টেবিল চামচ মুলতানি মাটি

ব্যবহারবিধি: শসার রসে গোলাপজল ও মুলতানি মাটি মিশিয়ে ভালো করে পেস্ট তৈরি করুন। এবার এই পেস্টটি মুখে লাগান। এটি 15 মিনিটের জন্য শুকানোর জন্য ছেড়ে দিন। এরপর স্বাভাবিক পানি দিয়ে মুখ ধুয়ে ফেলুন।

কতটা লাভজনক: শসার গুণাগুণ সম্পর্কে আমরা আগেই বলেছি, কীভাবে এটি ত্বকের জন্য উপকারী। মুলতানি মাটির সাথে ব্যবহার করলে তা ত্বকের জন্য আরও উপকারী হবে। আসলে, মুলতানি মাটি ঐতিহ্যগতভাবে ত্বকের যত্নের প্রসাধনীতে ব্যবহৃত হয়। ব্ল্যাকহেডস দূর করতে এবং তৈলাক্ত ত্বক থেকে মুক্তি দিতে এটি উপকারী হতে পারে। উপরন্তু, এটি ত্বকের রং উন্নত করতেও ব্যবহার করা যায়।

আরো পড়ুনঃ মুলতানি মাটি দিয়ে ফর্সা হওয়ার উপায় ও নিয়ম

শসার ফেসপ্যাক ব্যবহার করার টিপস

শসার ফেসপ্যাক ব্যবহারের সময় এবং আগে কিছু সতর্কতা অবলম্বন করলেই মুখে শসা লাগানোর উপকারিতা পাওয়া যায়। শসার ফেসপ্যাক লাগানোর সময় নিচের বিষয়গুলো মাথায় রাখুনঃ

যেকোনো ফেসপ্যাক লাগানোর আগে একবার প্যাচ টেস্ট করে নিন। এ জন্য হাতে একটু ফেসপ্যাক রেখে দিন। যদি জ্বালা ইত্যাদি হয়, তাহলে সেই ফেসপ্যাকটি ব্যবহার করবেন না।

আপনি যদি ফেসপ্যাক লাগানোর পর ত্বকে ম্যাসাজ করেন, তাহলে হালকা হাতে ধীরে ধীরে করুন।

হলুদ ব্যবহার করার সময় খেয়াল রাখবেন এটা যেন বেশি না লাগে। এতে করে ত্বকে হলুদের হলুদ দাগ থেকে যেতে পারে।

যদি ফেসপ্যাকে এমন কোনো উপাদান থাকে যা অ্যালার্জি সৃষ্টি করে, তাহলে সেই ফেসপ্যাকটি ব্যবহার করবেন না।

শসার ফেসপ্যাক লাগানোর পর ত্বককে ময়েশ্চারাইজ করতে ভুলবেন না, কারণ বিভিন্ন ফেসপ্যাকে এমন অনেক উপাদান থাকে, যা ত্বকের তেল পরিষ্কার করে। এ কারণে ত্বক শুষ্ক হয়ে যেতে পারে।

ফেস মাস্ক প্রয়োগ করার সময়, শুধুমাত্র একটি পরিষ্কার ব্রাশ বা হালকা হাতে ব্যবহার করুন। ত্বকে কোনো চাপ প্রয়োগ করবেন না।

নারকেল তেল যুক্ত ফেসমাস্ক সব ধরনের ত্বকে ব্যবহার করা উচিত নয়। বিশেষ করে ত্বক খুব তৈলাক্ত হলে এই ফেসমাস্ক ব্যবহার করা এড়িয়ে চলুন।

ত্বকে কোনো ধরনের কাটা বা ক্ষত থাকলে টমেটো ব্যবহার করবেন না। এটি ক্ষতকে আরও গভীর করে তুলতে পারে।

শুষ্ক ত্বকে বেসন যুক্ত ফেসপ্যাক লাগাবেন না।

শসার ফেসপ্যাক কীভাবে ত্বকে ব্যবহার করা যায় তা আপনি ইতিমধ্যেই জানেন। এখন আপনি আপনার ত্বকের চাহিদা অনুযায়ী ফেসমাস্ক বেছে নিতে পারেন। আপনার যদি কোনও উপাদানে অ্যালার্জি থাকে তবে সেই ফেসপ্যাকটি ব্যবহার করা এড়িয়ে চলুন। মনে রাখবেন স্বাস্থ্যকর এবং উজ্জ্বল ত্বক পেতে ফেসমাস্কের পাশাপাশি মুখের জন্য প্রয়োজনীয় খাবার খাওয়া প্রয়োজন।

সচরাচর জিজ্ঞাস্যঃ

শসা কি ত্বকের রঙ হালকা করতে পারে?

হ্যাঁ, শসায় উপস্থিত স্কিন লাইটনিং এফেক্ট ত্বকের রং উন্নত করতে সহায়ক।

আমি কি সারারাত আমার মুখে শসা লাগাতে পারি?

হ্যাঁ, শসার রস সারারাত রাখা যেতে পারে।

শসা কালো দাগ দূর করতে পারে?

হ্যাঁ, শসার একটি ত্বককে হালকা করার প্রভাব রয়েছে, যা কালো দাগ দূর করতে সহায়ক।

আরো পড়ুনঃ

Rate this post

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Back to top button