স্কিন কেয়ার

স্থায়ী ফর্সা হওয়ার উপায়, কয়েকটি সহজ ফেসপ্যাক

ফর্সা ত্বক কে না চায় বলুন? তাইতো বাজারে ত্বক এখন ফর্সাকারী ক্রিমগুলোর আজ রমরমা ব্যবসা। তবে এই ত্বক ফর্সাকারী ক্রিমগুলো সামায়িক সময়ের জন্য ত্বক ফর্সা করলেও দীর্ঘমেয়াদে ত্বকের অনেক ক্ষতিসাধন করে থাকে এমনকি ক্যান্সারও হতে পারে। ও তাই বলে কি সুন্দর ফর্সা ত্বকের স্বপ্ন পূরণ হবে না? অবশ্যই হবে যারা ত্বকের কোন ক্ষতি ছাড়া স্থায়ীভাবে সুন্দর ফর্সা ত্বক পেতে চান তাদের জন্য আমাদের আজকের ব্লগটি। কিভাবে প্রাকৃতিক উপকরন ব্যবহার করে ঘরোয়া উপায়ে স্থায়ীভাবে ফর্সা ত্বক পাবেন জানতে পড়তে থাকুন আজকের ব্লগটি –

স্থায়ী ফর্সা হওয়ার উপায়

লেবুর রস,মধু আর দুধের ফেসপ্যাক

উপকরন

  • ১ টেবিল চামচ দুধ
  • ১ চা চামচ মধু
  • ১ চা চামচ লেবুর রস

ব্যবহারবিধি:

এক টেবিল চামচ দুধ, এক চা চামচ মধু এবং এক টেবিল চামচ লেবুর রস একসাথে ভালোভাবে মিশিয়ে নিন। তারপর আপনার পরিষ্কার মুখের উপর মিশ্রণটি প্রয়োগ করুন। মিশ্রণটি আপনার মুখে শুকানোর জন্য প্রায় ২০ মিনিটের জন্য রেখে দিন। ফেসপ্যাকটি শুকিয়ে গেলে কুসুম গরম পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। তারপর ভালো করে মুখটি মুছে ময়শ্চারাইজার ব্যবহার করুন।

ফেসপ্যাকটি ব্যবহারের উপকারিতা:

লেবুর রসে বিদ্যমান প্রাকৃতিক ব্লিচিং বৈশিষ্ট্য ত্বক সাদা করতে অন্যতম ঘরোয়া উপায় হিসেবে বিবেচনা করা হয়। লেবুর রস-মিশ্রিত ফেসপ্যাক আপনার ত্বকের কালো শেডকে কয়েক শেড হালকা করে তুলবে। ত্বককে উজ্জ্বল করা কিংবা ত্বকে কালো দাগের উপস্থিতি কমানো বা ত্বকের তৈলাক্ত ভাব কমানোর জন্য লেবুর রসের উপকারিতা আপনার ত্বকের জন্য অতুলনীয়। মধুও আপনার ত্বকের সমস্যা দূরীকরণে অসাধারণ ভূমিকা রাখে। মধুতে বিদ্যমান অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়াল বৈশিষ্ট্যগুলি দাগ এবং পিগমেন্টেশনকে কমাতে সাহায্য করে। তাই এই ফেসপ্যাকটি ব্যবহার করার ফলে আপনার ত্বক হয়ে উঠবে ফর্সা ও স্বাস্থ্যকর।

আরো পড়ুনঃ লেবু দিয়ে ফর্সা হওয়ার উপায় এবং উপকারিতা

টক দইয়ের ফেসপ্যাক

উপকরণ

  • ২ চা চামচ টকদই
  • ১ চা চামচ মধু

ব্যবহারবিধি:

একটি বাটিতে দুই চা চামচ টকদই এক চা চামচ মধুর সাথে ভালোভাবে মিশিয়ে নিন। উপাদানগুলিকে ভালভাবে মিশ্রিত করুন যাতে করে একটি মসৃণ পেস্ট তৈরি হয়। তারপর মিশ্রণটি আপনার মুখে ব্রাশ দিয়ে ভালোভাবে লাগিয়ে নিন। তারপর শুকানোর জন্য ১৫ মিনিট রেখে দিন। ১৫ মিনিট পর ঠান্ডা পানি দিয়ে আপনার মুখটি ভালোভাবে ধুয়ে ফেলুন।

ফেসপ্যাকটি ব্যবহারের উপকারিতা:

দই হল ত্বককে ফর্সা করার অন্যতম সেরা উপাদান। দইয়ে বিদ্যমান ল্যাকটিক অ্যাসিড যা ত্বকের কালো বর্ণকে হালকা করতে ও বার্ধক্যের লক্ষণগুলিকে দূরীকরণে কাজ করে। এর পাশাপাশি দই আপনার মুখের কালো দাগগুলিকে হালকা করতে সহায়তা করে। দইয়ে রয়েছে ভিটামিন বি কমপ্লেক্স যা আপনার ত্বককে আরও উজ্জ্বল লাবণ্যময় করে তুলতে সাহায্য করে।

আলু এবং মধুর ফেসপ্যাক

উপকরন

  • ১ টি মাঝারি সাইজের আলুর রস
  • ১ চা চামচ মধু

ব্যবহারবিধি:

প্রথমে একটি আলু খোসা ছাড়িয়ে নিয়ে খুব ছোট টুকরা করে নিতে হবে। তারপর আলুটা বেটে কিংবা ব্লেন্ড করে ছেঁকে তার থেকে রস বের করে নিতে হবে। তারপর রস বের করে এতে ১ চা চামচ মধু ভালোভাবে মিশিয়ে নিতে হবে। মিশ্রনটি তৈরী করার পর তুলোর প্যাডের সাহায্যে আপনার ত্বকের যে স্থানের কালো দাগ আপনি দূর করতে চান সেখানে লাগিয়ে নিতে হবে। লাগানো হয়ে গেলে এটি ২০ মিনিটের জন্য রেখে দিন ও তারপর হালকা কুসুম গরম পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন।

আপনি আপনার রেফ্রিজারেটরে ৪-৫ দিন পর্যন্ত আলুর রস সংরক্ষণ করতে পারবেন । এতে করে একদিন তৈরী করে ৪-৫ দিন ঝামেলাহীন ভাবে ব্যবহার করতে পারবেন।

ফেসপ্যাকটি ব্যবহারের উপকারিতা:

আলুতে রয়েছে ভিটামিন সি এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট যা একটি হালকা ব্লিচিং এজেন্ট হিসাবে কাজ করে। তাছাড়া আলুর রস আপনার ত্বকের কোনো ক্ষতি না করেই ত্বকের কালো বর্ণকে ফর্সা করতে কাজ করে এবং ত্বকের মৃত কোষগুলিকে দূর করে দেয়। এতে ত্বকের জৌলুস বৃদ্বি পায় এবং ত্বক হয়ে উঠবে ফর্সা ও সুন্দর।

চালের গুঁড়া ও দুধের ফেসপ্যাক

উপকরণ

  • আধা কাপ চালের গুঁড়া
  • ৩-৪ টেবিল চামচ কাঁচা দুধ

ব্যবহারবিধি:

প্রথমে আধা কাপ চাল পানি দিয়ে ভিজিয়ে নিতে হবে তারপর চাল পিষে গুঁড়া করে নিন। তারপর চালের গুঁড়তে
৩-৪ টেবিল চামচ দুধ যোগ করে একটি পেস্ট তৈরী করে নিন। তারপর পেস্টটি আপনার সারা মুখে ভালো করে লাগিয়ে নিন। তারপর শুকানোর জন্য কমপক্ষে আধা ঘন্টা রেখে দিন এবং এরপর হালকা গরম পানি দিয়ে আপনার মুখটি ভালো করে ধুয়ে ফেলুন। তারপর ভালো করে মুখটি মুছে ময়শ্চারাইজার ব্যবহার করুন।

ফেসপ্যাকটি ব্যবহারের উপকারিতা:

চালের গুঁড়া হলো এমন একটি উপাদান তা যা ত্বককে ঝকঝকে, নরম, ফর্সা এবং স্বাস্থ্যকর করতে সাহায্য করে। চালের আটাও কাচাঁদুধ মিশ্রিত এই ফেসপ্যাকটি আপনার ত্বককে উজ্জ্বল এবং টানটান করে তুলতে দুর্দান্ত কাজ করবে। চালের গুঁড়া একদিকে যেমন ত্বককে সূর্যের ক্ষতিকর রশ্মির হাত থেকে রক্ষা করে ত্বককে বার্ধক্যের প্রাথমিক লক্ষণ দূরীকরণে কাজ করে তেমনি অন্যদিকে দুধ ত্বককে পুষ্ট ও স্বাস্থ্যকর করতে কাজ করে। চালের গুঁড়া ও কাঁচা দুধের ফেসপ্যাকটি এমন একটি পাওয়ার-প্যাক যা আপনার ত্বককে উজ্জ্বল করার পাশাপাশি ত্বকে তারুণ্যের আভা এনে দিতে সক্ষম।

পেঁপে ও মধুর ফেসপ্যাক

উপকরণ:

  • আধা কাপ পেঁপে
  • ১ চা চামচ মধু

ব্যবহারবিধি:

প্রথমে আধা কাপ পেঁপের টুকরো নিন তারপর তা হাত দিয়ে পিষে কিংবা ব্লেন্ড করে একটি মসৃণ পেস্ট তৈরী করে নিন। এরপর পেস্টটিতে এক চা চামচ মধু যোগ করুন এবং ভালভাবে মিশিয়ে নিন। মেশানো হয়ে গেলে ফেসপ্যাকটি আপনার মুখে লাগিয়ে নিন। শুকানোর জন্য প্রায় ২০ মিনিট মুখে রেখে দিন। তারপর কুসুম গরম পানি দিয়ে আপনার মুখ ধুয়ে নিন।

ফেসপ্যাকটি ব্যবহারের উপকারিতা:

পেঁপে হলো ত্বক ফর্সা করার ঘরোয়া উপকরণগুলোর একটি। পেঁপেতে রয়েছে আলফা হাইড্রক্সি অ্যাসিড ও পেপেইনের মতো এনজাইম যা আপনার ত্বকের মৃত কোষ ও ব্রণের দাগ দূর করতে সাহায্য করে। যার ফলে ত্বক হয়ে উঠে উজ্জ্বল ও ফর্সা। পেপেইন ত্বককে সাদা করার এনজাইম হিসেবে কাজ করে তাছাড়া এতে মধু যোগ করার কারনে আপনার ত্বক হয়ে উঠবে ফর্সা, নিখুঁত ও লাবণ্যময়।

গাজর ও অ্যাভোকাডোর ফেসপ্যাক

উপকরণ:

  • ১ টি মাঝারি সাইজের গাজর
  • ১টি অ্যাভোকাডো
  • ১ টি ডিম
  • ১ টেবিল চামচ ভারী ক্রিম
  • ১ টেবিল চামচ মধু

ব্যবহারবিধি:

প্রথমে একটি মাঝারি আকারের গাজর সিদ্ধ করে ঠাণ্ডা করে নিন তারপর একটি অ্যাভোকাডো এটির সাথে ম্যাশ করে নিন। তারপর এতে এক টেবিল চামচ ভারী ক্রিম, ডিম ও এক টেবিল চামচ মধু যোগ করে নিন এবং ভালোভাবে নাড়তে থাকুন। ভালো করে নাড়তে নাড়তে একটি ঘন, মসৃণ পেস্ট তৈরি করুন। তারপর তৈরীকৃত প্যাকটি আপনার মুখ এবং ঘাড়ে ভালোভাবে লাগিয়ে ১৫ মিনিটের জন্য রেখে দিন। প্যাকটি শুকিয়ে গেলে ম্যাসেজ করতে করতে ঠান্ডা পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন।

ফেসপ্যাকটি ব্যবহারের উপকারিতা:

গাজর হলো বিটা-ক্যারোটিন সমৃদ্ধ যা আপনার ত্বক ভালে রাখতে করতে দারুন কাজ করে। বিটা-ক্যারোটিন ছাড়াও গাজরে রয়েছে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট যা ত্বকের গঠন ও রং পরির্বতন করতে সাহায্য করে। গাজরের পাশাপাশি অ্যাভোকাডোতে বিদ্যমান ভিটামিন ত্বকের মৃত কোষ অপসারণ করতে ও ব্রণের বিরুদ্ধে লড়াই করতে দুর্দান্ত কাজ করে।

তাছাড়া ডিম ত্বকের ছিদ্র বন্ধ করতে এবং ত্বককে স্বাস্থ্যকর করতে সহায়তা করে। মধু আপনার ত্বক উজ্জ্বল করতে বিস্ময়কর কাজ করে থাকে। আর এই সবগুলো উপকরণের সংমিশ্রনে তৈরী ফেসপ্যাকটি ত্বকে ফর্সা করতে দুর্দান্ত কাজ করে। তবে কার্যকর ফলাফলের জন্য এই পুষ্টিকর ত্বক ফর্সা করার ঘরোয়া এই ফেসপ্যাকটি সপ্তাহে অন্তত দুইবার ব্যবহার করে আপনার ত্বককে প্যাম্পার করুন।

চন্দনের ফেসপ্যাক

উপকরণ:

  • ১ টেবিল চামচ চন্দন গুঁড়ো
  • ১ টেবিল চামচ বাদাম গুঁড়ো
  • ৩-৪ টেবিল চামচ দুধ

ব্যবহারবিধি:

একটি বাটিতে এক টেবিল চামচ চন্দন গুঁড়ো এবং এক টেবিল বাদাম গুঁড়ো ভালো করে মিশিয়ে নিন। তারপর একটি মসৃণ পেস্ট তৈরি করতে এতে ৩-৪ টেবিল চামচ দুধ মিশিয়ে নিন ও ভালোভাবে নাড়তে থাকুন। পেস্টটি মৃসণ হয়ে গেলে এটি আপনার মুখ, হাতে ভালো করে লাগিয়ে নিন। প্যাকটি শুকানোর জন্য মুখে ২০ মিনিটের মতো রেখে দিন। তারপর হালকা কুসুম গরম পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। তারপর মুখ ও হাতে ভালোভাবে ময়েশ্চারাইজ ব্যবহার করুন।

ফেসপ্যাকটি ব্যবহারের উপকারিতা:

প্রাচীনকাল থেকেই চন্দন কাঠ ত্বককে উজ্জ্বল করার একটি দুর্দান্ত উপকরন হিসেবে বিবেচনা করা হয়। চন্দন কাঠের অসাধারণ বৈশিষ্ট্যগুলি এটিকে রুপচর্চার একটি বিস্ময়কর উপাদান হিসেবে বিবেচ্য করে তোলে। চন্দন বার্ধক্যের প্রাথমিক লক্ষণগুলি হ্রাস করার পাশাপাশি ত্বকের দাগের বিরুদ্ধে দুর্দান্ত কাজ করে। তাছাড়াও চন্দনে রয়েছে ত্বকের ট্যান কমানো ও ত্বকের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধির চমৎকার উপাদান। চন্দন কাঠে রয়েছে ত্বককে প্রাকৃতিকভাবে ফর্সা রার উপাদান রয়েছে যা ত্বকের রঙকে ফর্সা করতে দুর্দান্ত কাজ করে। কার্যকর ফলাফল পেতে চন্দন প্যাকটি সপ্তাহে অন্তত দুইবার ব্যবহার করুন।

আরো পড়ুনঃ

5/5 - (16 Reviews)

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button