স্বাস্থ্য

সুপারি খাওয়ার উপকারিতা ও নিয়ম এবং অপকারিতা

সুপারি একটি ভেষজ উদ্ভিদ। সুপারি ব্যবহারে অনেক রোগের চিকিৎসা করা যায়। দেশ ও প্রকরণ ভেদে সুপারি অনেক ধরনের হয়। প্রধানত লাল সুপারির প্রজাতি বেশি প্রচলিত।

লাল সুপারির গাছ খেজুর ও নারকেল গাছের মতো লম্বা। এর কান্ড সোজা, মসৃণ, রিংযুক্ত। এর পাতা বড়, নারকেল পাতার মতো। এর ফল মসৃণ ও কমলা রঙের এবং পাকলে উপবৃত্তাকার দেখায়। এই ফলের ভিতরে রয়েছে সুপারি।

সুপারি এর বোটানিক্যাল নাম Areca catechu Linn, Syn-Areca hortensis Lour এবং এটি Arecaceae পরিবারের অন্তর্গত।

সুপারির উপকারিতা ও ব্যবহার

আসুন জেনে নিই সুপারি এর আয়ুর্বেদিক গুণাবলী ও ক্রিয়া, কীভাবে এটি ওষুধে ব্যবহার করা হয় এবং এর পদ্ধতিগুলি কী কী:-

মুখের আলসারের চিকিৎসায়- মুখে ফোসকা হলে সুপারি ও বড় এলাচের মিশ্রণ তৈরি করুন। এতে মধু মিশিয়ে মুখে লাগান। এটি মুখের আলসারের সমস্যায় উপকারী। আবার, শুকনো আদা, সুপারি এবং নারকেলের পানি দিয়ে ক্বাথ তৈরি করে গার্গল করলে মুখের রোগ দূর হয়।

পেটের কৃমি দূরীকরণে- পেটের কৃমি হলে ১০-৩০ মিলি সুপারি ফলের ক্বাথ তৈরি করুন। এটি খেলে পেটের কৃমি দূর হয়।

একইভাবে ৫ মিলি সুপারি ফলের রস পান করলে পাকস্থলীর বর্জ্য মলের মাধ্যমে বের হয়ে যায়।

অন্ত্রের ব্যাধির চিকিৎসায়- অনেকেরই অন্ত্র সংক্রান্ত সমস্যা থাকে। অন্ত্রের রোগ সারাতে ১-৪ গ্রাম সুপারি গুঁড়ো ছানার সঙ্গে খান। এটি অন্ত্রের রোগে উপকারী।

দাঁতের ব্যথার জন্য- দাঁতে ব্যথা হলে সুপারির গুঁড়া, খদির, পিপ্পলি ও মারিচে সমপরিমাণে মিশিয়ে দাঁতে ঘষে নিন। এটি দাঁতের ব্যথা, মাড়ির ব্যথা এবং জিহ্বার ব্যথা থেকে মুক্তি দেয়। সুপারির গুঁড়া দিয়ে দাঁত ঘষলে দাঁতের রোগ নিরাময় হয়।

ডায়রিয়া রোধে- ডায়রিয়া রোধে সুপারি খাওয়ার উপকারিতা পাওয়া যায়। এর জন্য ধীর আগুনে পাঁচটি সবুজ সুপারি রান্না করুন। ভেতরের দিকটা জ্বলে উঠলে বের করে কেটে ব্যবহার করুন। এটি ডায়রিয়ায় উপকারী।

বমি বন্ধ করতে- সুপারি ও হলুদের গুঁড়া (১-৩ গ্রাম) চিনির সঙ্গে মিশিয়ে খেলে বমি বন্ধ হয় ।
পানিতে সুপারি এবং নিমের ছাল মিশিয়ে ছেঁকে নিয়ে অল্প অল্প করে খেলে বমি বন্ধ হয়ে যায়।

চোখের রোগে- সুপারির গুঁড়া এবং অল্প পরিমাণে স্ফটিক সমান অংশে মিশিয়ে নিন। এগুলি লেবুর রসে দ্রবীভূত করুন। এই রস এক ফোঁটা চোখে লাগালে চোখের লাল হওয়ার সমস্যা দূর হয়।

মাসিক ব্যাধিতে- যেসব মহিলারা মাসিকের সমস্যায় ভুগছেন তাদের সুপারি খাওয়া উচিত। এটি মাসিকের ব্যাধিতে উপশম দেয়।

আরো পড়ুনঃ পিরিয়ডের সময় কি কি খাবার খাওয়া উচিত, পিরিয়ডের ব্যথা কমানোর উপায় ঘরোয়া পদ্ধতি

মূত্রনালীর ব্যাধির চিকিৎসায়- ঘন ঘন প্রস্রাবের রোগে সুপারি ব্যবহার করা উচিত। এর জন্য সুপারি ও খদির ছালের ক্বাথ তৈরি করুন। এই ক্বাথ ১০-৩০ মিলি মধুর সাথে মিশিয়ে খেলে প্রস্রাবের রোগে উপকার পাওয়া যায়।

আরো পড়ুনঃ প্রস্রাবে ইনফেকশনের লক্ষণ, কারণ ও ঘরোয়া প্রতিকার, পুরুষদের জন্য অশ্বগন্ধার উপকারিতা ও খাওয়ার নিয়ম

শুক্রাণুর রোগে- শুক্রাণুর রোগেও সুপারি খাওয়ার উপকারিতা পাওয়া যায়। এর জন্য ৬ গ্রাম সুপারি গুঁড়ার সাথে ৩ গ্রাম চিনি মিশিয়ে দুধের সাথে খেতে হবে। এটি শুক্রাণুর রোগে উপকারী।

সিফিলিসের চিকিৎসায়- সিফিলিসের ক্ষতস্থানে সুপারি গুঁড়ো লাগালে ক্ষত দ্রুত সেরে যায়। এই ক্ষতস্থানে প্রতিদিন এই পেস্ট লাগাতে হবে।

চর্মরোগের জন্য- চর্মরোগ সারাতে সুপারি পিষে লাগান। এটি ত্বকের ক্ষত এবংত্বকের অন্যান্য রোগ নিরাময় করে। ত্বক লাল হয়ে গেলে ফুটন্ত পানিতে সুপারি ভিজিয়ে রাখুন সারারাত। সকালে সেই পানি দিয়ে ত্বকের লালচে ভাব ধুয়ে ফেলুন। এটি চর্মরোগে উপকারী।

একজিমার চিকিৎসায়- একজিমা হলে সুপারির গুঁড়া, তিলের তেল এবং ঘি মিশিয়ে সেবন করলে উপকার পাওয়া যায়।

চিকেনপক্স বা গুটি বসন্তের চিকিৎসায়- গুটি বসন্তের মতো রোগেও সুপারি ব্যবহার করতে পারেন । ১-২ গ্রাম সুপারি গুঁড়ো পানির সাথে মিশিয়ে সেবন করলে এই রোগ থেকে উপশম পাওয়া যায়।

টাকের সমস্যায়- টাক পড়ায় সুপারি ব্যবহার উপকারী। এর জন্য নীলকমল, বহেড়া ফলের মজ্জা, তিল এবং অশ্বগন্ধার সমান অংশ নিন। প্রিঙ্গু ফুলের অর্ধেক অংশ এবং সুপারির ছাল মিশিয়ে পিষে নিন। টাকের সমস্যায় এই পেস্ট লাগালে উপকার পাওয়া যায়।

ভাটা ডিসঅর্ডার- স্ক্যালিয়ন এবং সুপারি দিয়ে একটি ক্বাথ তৈরি করুন। তেলের সাথে মিশিয়ে ম্যাসাজ করুন। এর ফলে ভাটা রোগে আক্রান্ত রোগীরা ২১ দিনে সুস্থ হতে শুরু করে।

পিঠের ব্যথা থেকে মুক্তি পেতে- তেলের সঙ্গে সুপারির রস মিশিয়ে পিঠে মালিশ করলে পিঠের ব্যথার উপশম হয় ।

রক্তক্ষরণ বন্ধে- শরীরের বিভিন্ন স্থান যেমন নাক, কান ইত্যাদি থেকে রক্তপাত হলে ২ গ্রাম সুপারি গুঁড়ো এবং একই পরিমাণ চন্দন গুঁড়ো মিশিয়ে খেলে উপকার পাওয়া যায়।

আরো পড়ুনঃ

5/5 - (14 Reviews)

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button