স্কিন কেয়ার

ত্বক ফর্সা করার ঘরোয়া উপায় রূপচর্চা টিপস

ত্বক ফর্সা করার ঘরোয়া উপায়ঃ আমরা সবাই নিশ্ছিদ্র ত্বক এবং নিখুঁত স্কিন টোনের স্বপ্ন দেখি। কিন্তু আমাদের লাইফস্টাইল এমন হয়ে গেছে যে ফর্সা ত্বক স্বপ্নে পরিণত হয়েছে। তবে হতাশ হবেন না কারণ ফর্সা ত্বক সম্ভব! এর জন্য অনেক পদ্ধতি আছে যেগুলো অবলম্বন করে আপনি পেতে পারেন নিশ্ছিদ্র, উজ্জ্বল ও ফর্সা ত্বক। এই পোস্টে আলোচিত ত্বক ফর্সা করার ঘরোয়া উপায়গুলি অবলম্বন করে আপনি পেতে পারেন সুন্দর উজ্জ্বল ফর্সা ত্বক।

ত্বক ফর্সা করার ঘরোয়া উপায়

রূপচর্চা বিষয়ক অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য আমি আপনাদের সাথে নিয়মিত শেয়ার করি, যেগুলো আমি নিজেই ব্যবহার করে থাকি। সুস্থ ও সুন্দর জীবন পেতে হলে আপনাকে অবশ্যই কিছু নিয়ম কানুন মেনে চলতে হবে, এটা আমরা সবাই জানি। আর আমি আপনাকে জোর দিয়ে বলছি আপনার ত্বক ফর্সা ও সুন্দর রাখতে হলে নিচের নিয়ম গুলো আপনার জীবনযাত্রায় অবশ্যই থাকতে হবে।

এই ৮টি পয়েন্ট খুব গুরুত্ব সহকারে পড়ুন তারপর নিচের অংশে যান

  • পর্যাপ্ত ঘুম
    আপনি যদি প্রতিদিন আট ঘন্টা না ঘুমান, তবে এটি আপনার ত্বকে খুব বিরূপ প্রভাব ফেলে। শুধু চোখই ফোলা দেখায় না, মুখও ফুলে যায়, আবার অনেকের চেহারা চুপসে যায়। চোখের নিচে ডার্ক সার্কেল দেখা যায় এবং ক্লান্তি স্পষ্ট দেখা যায়। ঘুমের সময়ই আপনার ত্বকের কোষগুলি প্রাকৃতিকভাবে মেরামত হয়।
  • পর্যাপ্ত পানি পান করুন
    প্রতিদিন অন্তত ৮ গ্লাস পানি পান করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এটি আপনার শরীর থেকে সমস্ত টক্সিন দূর করে এবং আপনার ত্বকে হাইড্রেশন লেভেল বজায় রাখে। এইভাবে আপনার ত্বক পরিষ্কার, উজ্জ্বল এবং স্বাস্থ্যকর থাকে। প্রতিদিন কমপক্ষে 8 গ্লাস জল পান করতে ভুলবেন না।
  • রাসায়নিক থেকে দূরে থাকুন
    আপনি দিনের বেলা মেকআপ করেছেন এবং বারবার আয়নায় নিজেকে দেখেছেন। কিন্তু আপনি কি জানেন যে অনেক কসমেটিক পণ্য ক্ষতিকর রাসায়নিক পদার্থে ভরা থাকে? এটি গুরুত্বপূর্ণ যে আপনি সেই পণ্যগুলি কিনবেন যাতে কেমিক্যল কম থাকে। এছাড়াও, প্রয়োজন না হলে মেকআপ না করা আপনার ত্বককে রাসায়নিক থেকে দূরে রাখবে। এইভাবে আপনার ছিদ্রগুলি আটকে থাকবে না এবং আপনার ত্বকে ব্রেকআউট হবে না।
  • ঘরের ভিতরে থাকলেও সানস্ক্রিন পরুন
    ঘর থেকে বের হলেই সানস্ক্রিন লাগাব এমন ভাবা ভুল। ঘরের ভিতরেও সানস্ক্রিন লাগাতে হবে। এটি আপনার ত্বককে সুস্থ রাখে এবং দাগ রোধ করে। ক্রমাগত সানস্ক্রিন ব্যবহারেও ত্বকে ব্রণ হয় না, যার কারণে ত্বক দাগহীন থাকে।
  • আপনার ত্বককে ময়শ্চারাইজ করুন
    আপনি যদি আপনার ত্বককে সবসময় ময়শ্চারাইজ করেন তবে এটি আপনার ত্বককে সুস্থ রাখবে। বাজারে অনেক ময়েশ্চারাইজার পাওয়া যায়, তবে আপনি যদি প্রাকৃতিক ময়েশ্চারাইজার চান তবে গোসলের পরপরই ভেজা ত্বকে নারকেল তেল লাগান। ত্বক নারকেল তেল শুষে নেবে এবং আপনার ত্বক সারাদিন নরম থাকবে।
  • ত্বকের এক্সফোলিয়েট স্বাভাবিক করুন
    এক্সফোলিয়েশন আপনার ত্বক থেকে মৃত কোষ দূর করে এবং নিষ্প্রাণ, ক্লান্ত ত্বক দূর করে এবং তাজা ও উজ্জ্বল ত্বক নিয়ে আসে। গ্লাইকোলিক অ্যাসিড এবং ল্যাকটিক অ্যাসিড ধারণকারী পণ্য ব্যবহার করুন, যা তেল শোষণ করে। শরীরের জন্য, আপনি চিনি এবং লবণ মিশ্রিত করে একটি প্রাকৃতিক এক্সফোলিয়েটর ব্যবহার করতে পারেন। ভেজা ত্বকে বৃত্তাকার গতিতে মুখের জন্য বাদাম গুঁড়ো ঘষুন। সপ্তাহে দুবার এক্সফলিয়েট করলে ত্বক উজ্জ্বল হয়।
  • মুখে স্টিম ফেসিয়াল করুন
    মুখ স্টিম ফেসিয়াল করা খুব গুরুত্বপূর্ণ। গরম পানি থেকে বেরিয়ে আসা বাষ্প মুখের আটকে থাকা ছিদ্রগুলো খুলে দেয়। এমনকি যদি আপনার মুখে কোনো ধরনের দাগ থাকে, তবে এটি তাদের ছিদ্রগুলি খুলে দেয় এবং সেগুলি ঠিক করার দিকে একটি পদক্ষেপ নেয়। এটি আপনার ত্বকের মৃত কোষগুলিকেও দূর করে, যার কারণে ত্বক পরিষ্কার হয় এবং বর্ণ উজ্জ্বল হয়।
  • ঠান্ডা গোলাপ জল ব্যবহার করুন
    দাগহীন এবং ফর্সা ত্বকের জন্য সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত প্রাকৃতিক প্রতিকার হল গোলাপ জল। এটিতে অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি এবং অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট বৈশিষ্ট্য রয়েছে। এটিতে অ্যান্টি-এজিং বৈশিষ্ট্যও রয়েছে, যা কোলাজেন এবং ইলাস্টিন গঠনে সহায়তা করে।

এজন্য গোলাপজল ফ্রিজে আধা ঘণ্টা রেখে ঠান্ডা করে নিন।
তুলোর সাহায্যে মুখ, ঘাড় ও শরীরের বাকি অংশে লাগান।
এটি শুকাতে দিন এবং আপনার ত্বকের জন্য উপযুক্ত একটি ময়েশ্চারাইজার লাগান।
আপনি এটি দিনে দুবার করতে পারেন। এটি একটি প্রাকৃতিক অ্যাস্ট্রিনজেন্ট এবং ত্বককে টোন করে।

ঘরে তৈরি ত্বক ফর্সা করার টিপস, গ্লোয়িং টিপস

ত্বক ফর্সা করার টিপস
ত্বক ফর্সা করার টিপস

নিশ্ছিদ্র এবং উজ্জ্বল ত্বক পেতে বাদাম এবং মধু

বাদামে ভিটামিন ই এবং অন্যান্য পুষ্টি উপাদান রয়েছে যা ত্বককে মেরামত করে এবং নরম করে। এর নিয়মিত ব্যবহারে ত্বকের রং ফর্সা হয় এবং ত্বকও হয়ে ওঠে সুস্থ। একইভাবে মধুতে রয়েছে আর্দ্রতা এবং অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট বৈশিষ্ট্য। মধুতে রয়েছে আলফা হাইড্রক্সিল অ্যাসিড, যা আপনার ত্বককে আস্তে আস্তে পরিষ্কার করে এটিকে মসৃণ এবং স্বাস্থ্যকর করে তোলে। এই দুটি একসাথে ত্বককে দাগহীন ও উজ্জ্বল করে।

এর জন্য ৭-৮টি বাদাম পিষে তাতে ১ চা চামচ মধু মিশিয়ে নিন।
এই মিশ্রণটি মুখের পাশাপাশি ঘাড়ে লাগিয়ে হালকা হাতে ম্যাসাজ করুন।
এই মিশ্রণটি 15 মিনিটের জন্য রেখে দিন। এর পর সাধারণ পানি দিয়ে পরিষ্কার করুন।

ত্বকের রং উন্নত করতে দুধ এবং লেবুর রস

দুধে এত বেশি এনজাইম থাকে যে এটি প্রাকৃতিকভাবে ত্বককে হালকা করে। এটিতে আর্দ্রতার বৈশিষ্ট্যও রয়েছে। লেবু আপনার ত্বকের উপরের স্তরটিকে হালকাভাবে ব্লিচ করে এক্সফোলিয়েট করে।

একটি বালতিতে হালকা গরম জল নিন এবং তাতে এক কাপ দুধ এবং একটি লেবুর রস দিন।
এবার এই পানি দিয়ে গোসল করুন। আপনি খুব দ্রুত এর ফলাফল পাবেন।

ত্বকের উজ্জ্বলতার জন্য অ্যালোভেরা জেল

অ্যালোভেরায় একটি জৈব সক্রিয় যৌগ অ্যালোইন রয়েছে, যা মেলানিন সংশ্লেষণের উপর একটি বাধা দেয়ার প্রভাব ফেলে।

এর জন্য আপনার লাগবে ১ চা চামচ ফ্রেশ অ্যালোভেরা জেল এবং ১ চা চামচ ব্রাউন সুগার।
এই দুটি ভালো করে মিশিয়ে মুখে ও ঘাড়ে লাগান।
কিছুক্ষণ রেখে তারপর সাধারণ পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন।
এই মিশ্রণটি সপ্তাহে দুইবার মুখের পাশাপাশি শরীরের অন্যান্য অংশে লাগান।
এটির নিয়মিত ব্যবহার আপনার ত্বকের রঙ উজ্জ্বল করে।

দুধ এবং শুকনো কমলার খোসা দিয়ে কীভাবে ত্বক ব্লিচ করবেন?

এর জন্য আপনাকে কমলার খোসা পিষে এর গুঁড়া তৈরি করতে হবে।
এই পাউডারে দুধ মেশান এবং এই মিশ্রণটি আপনার মুখ এবং ঘাড়ে এবং শরীরের অন্যান্য অংশে 20 মিনিটের জন্য লাগিয়ে রাখুন।
ঠান্ডা জল দিয়ে ধুয়ে শুকিয়ে নিন।
আপনার ত্বক মসৃণ এবং সতেজ অনুভব করবে।
এই মিশ্রণটি ক্রমাগত ব্যবহারে রোদে পোড়া ভাব কমে যায় এবং গায়ের রং ফর্সা হয়।

আনারস এবং তাজা দুধ

একটি পাত্রে দুই টুকরো আনারসের পাল্প নিয়ে তাতে তাজা দুধ দিন।
দুটোই ভালো করে মিশিয়ে আপনার ত্বকে লাগান।
এই মিশ্রণটি কমপক্ষে 15 মিনিটের জন্য রেখে দিন। পরে ঠান্ডা পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন।
এটি ত্বক ব্লিচ করার একটি দুর্দান্ত উপায়।
ভালো ফলাফলের জন্য সপ্তাহে একবার এই মিশ্রণটি লাগান।

দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব সহ ঘরে তৈরি ত্বক ফর্সা করার টিপস

ত্বক ফর্সা করার জন্য দুধ ও মধুর প্যাক

দুধ ও মধু উভয়ই ময়েশ্চারাইজার হিসেবে কাজ করে। মধু অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়াল, যা ত্বককে দাগহীন করে।

মধু এবং দুধ দুটোই সমান পরিমাণে মিশিয়ে তুলোর সাহায্যে ত্বকে লাগান। হালকা ম্যাসাজও করতে পারেন।
এই মিশ্রণটি ত্বকে প্রায় 10-15 মিনিটের জন্য রেখে দিন এবং তারপর সাধারণ জল দিয়ে ধুয়ে ফেলুন।

কলা ও বাদাম তেলের প্যাক

কলায় রয়েছে ভিটামিন এ, যা ত্বকের রং ফর্সা ও উজ্জ্বল করতে সাহায্য করে। একইভাবে, বাদাম তেলে ভিটামিন ই রয়েছে, যা একটি দুর্দান্ত অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট এবং ত্বককে ভেতর থেকে উজ্জ্বল করে।

এই প্যাকটি তৈরি করতে একটি পাকা কলা ম্যাশ করে তাতে ২ চা চামচ বাদাম তেল মিশিয়ে আক্রান্ত স্থানে লাগান।
এটি ক্রমাগত ব্যবহারে, আপনার ত্বক কয়েক দিনের মধ্যে ফর্সা হয়ে উঠবে।

বেসন এবং হলুদের প্যাক

বেসন ও হলুদের প্যাক সম্পর্কে বেশি কিছু বলার দরকার নেই কারণ এই প্যাকটি ঠাকুরমার সময় থেকেই ব্যবহার হয়ে আসছে। বেসনের সাথে হলুদ মেশানো হলে তা ত্বককে দারুণভাবে পরিষ্কার করে। হলুদের এমন অনেক গুণ রয়েছে, যা ত্বকের অনেক সমস্যা দূর করে।

জলের সাহায্যে হলুদের সঙ্গে বেসন মিশিয়ে নিন।
এবার এই মিশ্রণটি মুখ, ঘাড় এবং শরীরের অন্যান্য অংশে ১৫-২০ মিনিট লাগিয়ে রাখুন। শুকিয়ে গেলে হালকা হাতে ম্যাসাজ করে তুলে নিন।
এই মিশ্রণটি আপনার ত্বককে ভেতর থেকে পরিষ্কার করে ফর্সা করে।

ক্রিম এবং আখরোট ফেস প্যাক

আখরোটে রয়েছে অনেক পুষ্টি উপাদান এবং অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট, যা ত্বকের ট্যানিং, ব্রণ, জ্বালা, দাগ এবং কালো দাগ দূর করতে কার্যকর। যখন এটি ক্রিমের সাথে মেশানো হয়, এটি একটি ময়শ্চারাইজিং এজেন্ট হিসাবে কাজ করে।

এটি তৈরি করতে, 1 চা চামচ আখরোটের পাউডারের সাথে 2 চা চামচ ক্রিম মিশিয়ে আপনার ত্বকে লাগান।
এটি সম্পূর্ণরূপে শুকিয়ে নিন এবং তারপর সাধারণ জল দিয়ে ধুয়ে ফেলুন।

পেঁপে ফেস প্যাক

পেঁপে ত্বকের রঙ হালকা করে এবং ফর্সা করে। এটি আপনার ত্বকে কোলাজেনের উৎপাদন বাড়ায়।

এর জন্য আপনার লাগবে ১টি পাকা পেঁপে ও ১টি লেবু। পেঁপে কেটে ম্যাশ করুন।
এতে লেবুর রস যোগ করুন।
এই মিশ্রণটি ত্বকে লাগান এবং প্রায় 15 মিনিটের জন্য রেখে দিন। পরে সাধারণ পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন।
সপ্তাহে দুবার লাগাতে পারেন।
পেঁপে এবং লেবুর এই মিশ্রণ ত্বকের টোনকে সমান করে এবং দাগ কমায়।

ভাত এবং দুধের ফেসপ্যাক

ভাতে এমন অনেক পুষ্টি উপাদান রয়েছে, যা আপনার ত্বকের স্বাস্থ্যের উন্নতি ঘটায়। সপ্তাহে দুবার লাগাতে পারেন। দুধের সাথে চাল মিশিয়ে মিশ্রণ তৈরি করা হলে তা বডি প্যাক হিসেবে কাজ করে।

চাল ও দুধ মিশিয়ে পেস্ট তৈরি করে সারা শরীরে লাগান।
15-20 মিনিটের জন্য রেখে দিন এবং সাধারণ জল দিয়ে ধুয়ে ফেলুন।
সেরা ফলাফলের জন্য প্রতিদিন এই মিশ্রণটি প্রয়োগ করুন।
এটি ত্বক থেকে অকাল বার্ধক্যের প্রভাবও দূর করে।

উপসংহার

ত্বক ফর্সা ও উজ্জ্বল করতে অনেক কিছুর যত্ন নেওয়া প্রয়োজন। আপনার জীবনযাত্রায় কিছু পরিবর্তন করার পাশাপাশি আপনাকে বিশেষ ঘরোয়া প্রতিকার গ্রহণ করতে হবে। এইভাবে আপনি কিছু দিনের মধ্যে নিশ্ছিদ্র, উজ্জ্বল এবং ফর্সা ত্বক পেতে পারেন।

আরো পড়ুনঃ

5/5 - (41 votes)

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Back to top button