স্কিন কেয়ার

বেসনের ফেসপ্যাকঃ ১৫ টি সহজ টিপস

বিভিন্ন শপিং মল, খ্যাতিসম্পন্ন ব্যান্ড বা বাজার নানা রাসায়নিকযুক্ত সৌন্দর্য পণ্যে পরিপূর্ণ। সেসব পন্য কীভাবে আপনার ত্বকের ক্ষতি করে থাকে তা ইতোমধ্যেই আপনি নিশ্চয় বুজতে পেরেছেন তাদের ব্যবহার এর মাধ্যমে। এমন পরিস্থিতিতে আমাদের ত্বকের স্বাভাবিক যত্ন নেওয়া জরুরি হয়ে পড়েছে।

এক্ষেত্রে আপনার রান্নাঘরে রাখা কিছু খাবার আপনার কাজে লাগতে পারে। আপাতত এই পোস্টে আমরা শুধু বেসনের কথাই বলছি। আমরা প্রায়ই বাড়ির বড়দের কাছ থেকে মুখে বেসন লাগানোর উপকারিতার কথা শুনে থাকি। একটি কার্যকরী প্রাকৃতিক ফেসপ্যাক হিসেবে বেসন ব্যবহার করা হয়। আপনার ত্বককে আকর্ষণীয় করার পাশাপাশি এটি ত্বকের অনেক সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে সাহায্য করে।

প্রথমেই জেনে নেওয়া যাক মুখে বেসন লাগালে কী কী উপকার পাওয়া যায়।

ত্বকের জন্য বেসনের উপকারিতা

ত্বকের জন্য যুগ যুগ ধরে বেসন ব্যবহার হয়ে আসছে। ত্বকে বেসন ব্যবহার এর উপকারিতা সমূহ নিচে বর্ননা করা হলো:

  • ত্বকের বর্ণ পরিষ্কার করে এবং ত্বককে নরম করে তোলে।
  • ত্বকের অতিরিক্ত তেল দূর করে।
  • বেসন পানিতে ভিজিয়ে ব্যবহার করলে এর ক্ষুদ্র কণা ত্বক থেকে ডেড সেল বা মৃত কোষ দূর করতে কাজ করে।
  • ব্রণের বৃদ্ধি বন্ধ করতে পারে।
  • বার্ধক্যের আগে মুখের বলিরেখা এবং ঝুলে যাওয়া ত্বক প্রতিরোধ করে।
  • বেসন ত্বকের জন্য ন্যাচারাল স্ক্রাব হিসেবে কাজ করে। ত্বকের পোরস বা ছিদ্র খুলে দেয় এবং মুখ ভিতর থেকে পরিষ্কার করে তোলে।

১. বেসন এবং অ্যালোভেরা ফেসপ্যাক

উপাদান:

  • এক চা চামচ বেসন
  • এক চামচ অ্যালোভেরা জেল

প্রক্রিয়া:

  1. এক চামচ অ্যালোভেরা জেলের মধ্যে এক চামচ বেসন মিশিয়ে নিন।
  2. এই পেস্টটি মুখে লাগিয়ে ১০ মিনিট রাখুন।
  3. শুকিয়ে গেলে পরিষ্কার পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন।
  4. সপ্তাহে দুই থেকে তিনবার এইভাবে পুনরাবৃত্তি করুন।

কিভাবে এটা কাজ করে:

বেসনের সাথে অ্যালোভেরার ব্যবহার ত্বকের জন্য অনেক উপকারী। অ্যালোভেরার ময়েশ্চারাইজিং বৈশিষ্ট্য রয়েছে, যা ত্বকের আর্দ্রতা ধরে রাখতে সাহায্য করে। এছাড়াও, এটিতে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এবং অ্যান্টি-এজিং বৈশিষ্ট্য রয়েছে, যা ত্বকে বলিরেখার উপস্থিতি রোধ করে।

আরো পড়ুনঃ এলোভেরার উপকারিতা ও গুণাগুণ, এলোভেরা ফেসিয়াল করার নিয়ম, এলোভেরা দিয়ে ফর্সা হওয়ার উপায়

২. বেসন এবং হলুদের ফেসপ্যাক

উপাদান:

  • দুই চা চামচ বেসন
  • এক চিমটি হলুদ
  • গোলাপ জল

প্রক্রিয়া:

  1. বেসনে এক চিমটি হলুদ যোগ করুন।
  2. এবার প্রয়োজন মতো গোলাপ জল মিশিয়ে পেস্ট তৈরি করুন।
  3. এই পেস্টটি মুখে লাগিয়ে শুকাতে দিন।
  4. ভালো করে শুকিয়ে গেলে পরিষ্কার পানি দিয়ে মুখ ধুয়ে ফেলুন।
  5. সপ্তাহে দুবার এই ফেসপ্যাকটি ব্যবহার করুন।

কিভাবে এটা কাজ করে:

বেসন এর সাথে হলুদ মিশিয়ে আপনি ফেসপ্যাকের গুণগত মান বাড়াতে পারেন। হলুদ একটি আয়ুর্বেদিক ইনগ্রিডিয়েন্ট, যা অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি, অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়াল এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট বৈশিষ্ট্যে সমৃদ্ধ, যা ত্বক পরিষ্কার করার পাশাপাশি ব্রণ থেকে মুক্তি পেতে সাহায্য করে। এছাড়াও, হলুদ সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মির ক্ষতিকর প্রভাব থেকে ত্বককে রক্ষা করতে পারে।

আরো পড়ুনঃ হলুদের উপকারিতা স্বাস্থ্য ও সৌন্দর্যে, ত্বকের যত্নে রসুনঃ জেনে নিন কোন সমস্যায় কীভাবে ব্যবহার করবেন

৩. বেসন এবং মুলতানি মাটির ফেসপ্যাক

উপাদান:

  • দুই চা চামচ মুলতানি মাটি
  • এক চা চামচ বেসন
  • গোলাপ জল

প্রক্রিয়া:

  1. একটি পাত্রে মুলতানি মাটি এবং বেসন মিশিয়ে নিন।
  2. এবার প্রয়োজন মতো গোলাপ জল মিশিয়ে পেস্ট তৈরি করুন।
  3. এই পেস্টটি মুখে লাগান এবং কমপক্ষে ২০-২৫ মিনিটের জন্য রেখে দিন।
  4. সম্পূর্ণ শুকিয়ে গেলে পরিষ্কার পানি দিয়ে মুখ ধুয়ে ফেলুন।
  5. সপ্তাহে দুই থেকে তিনবার এই ফেসপ্যাকটি ব্যবহার করুন।

কিভাবে এটা কাজ করে:

মুলতানি মাটি অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি বৈশিষ্ট্যে সমৃদ্ধ। এছাড়াও মুলতানি মাটি ত্বককে ভিতর থেকে পরিষ্কার করে ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়াতে সাহায্য করে।

৪. বেসন এবং টমেটোর ফেসপ্যাক

উপাদান:

  • দুই চা চামচ বেসন
  • একটি পাকা টমেটো

প্রক্রিয়া:

  1. টমেটো ভালো করে ধুয়ে একটি পরিষ্কার পাত্রে এর রস বের করুন।
  2. এই রসে দুই চা চামচ বেসন মিশিয়ে পেস্ট তৈরি করুন।
  3. এই পেস্টটি মুখে লাগিয়ে ১০-১৫ মিনিট রেখে দিন।
  4. পরিষ্কার পানি দিয়ে ভালো করে ধুয়ে ফেলুন।
  5. সপ্তাহে দুই থেকে তিনবার এই ফেসপ্যাকটি ব্যবহার করুন।

কিভাবে এটা কাজ করে:

টমেটোতে ভিটামিন-সি বেশি পরিমাণে পাওয়া যায়। ভিটামিন-সি হলো ত্বকের জন্য একটি প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদান, যা ত্বকে বলিরেখা এবং বার্ধক্যের চাপ পড়তে দেয় না।

আরো পড়ুনঃ টমেটোর উপকারিতা ও অপকারিতা, কনুইয়ের কালো দাগ দূর করার উপায়

৫. বেসন এবং কলার ফেসপ্যাক

উপাদান:

  • দুই চা চামচ বেসন
  • দুটি পাকা কলা
  • গোলাপ জল বা দুধ

প্রক্রিয়া:

  1. একটি পাত্রে কলা ভালো করে মাখুন এবং তাতে দুই চা চামচ বেসন দিন।
  2. এবার প্রয়োজন মতো গোলাপ জল বা দুধ মিশিয়ে পেস্ট তৈরি করুন।
  3. এবার এই পেস্টটি মুখে লাগিয়ে ১০-১৫ মিনিট রাখুন।
  4. সবশেষে কুসুম গরম পানি দিয়ে মুখ ধুয়ে ফেলুন।
  5. সপ্তাহে এক বা দুবার এই ফেসপ্যাকটি ব্যবহার করুন।

কিভাবে এটা কাজ করে:

কলা ভিটামিন-সি তে সমৃদ্ধ। ভিটামিন-সি ত্বকের কোলাজেন বাড়ায় এবং অকাল বার্ধক্য রোধ করে। উপরন্তু, এটি ত্বকের স্থিতিস্থাপকতাও বজায় রাখে। কলার সাথে মিলিত হলে, বেসন এর বৈশিষ্ট্যও দ্বিগুণ হয়ে যায়।

আরো পড়ুনঃ কলার খোসা দিয়ে রূপচর্চা করার উপায় এবং নিয়ম, স্বাস্থ্য ও সৌন্দর্যে কলার খোসার উপকারিতা, মধুর ফেসপ্যাক দিয়ে ব্রণ দূর করার উপায়

৬. বেসন এবং দই এর ফেসপ্যাক

উপাদান:

  • দুই টেবিল চামচ বেসন
  • এক বা দুই চামচ দই

প্রক্রিয়া:

  • সবগুলো উপাদান একসাথে মিশিয়ে পেস্ট তৈরি করুন।
  • এই পেস্টটি মুখে লাগিয়ে ১০-১৫ মিনিট রাখুন।
  • ভালো করে শুকিয়ে গেলে পরিষ্কার পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন।

এটা কিভাবে কাজ করে:

দইয়ে রয়েছে ল্যাকটোব্যাসিলাস নামক উপাদান, যা ত্বকের বলিরেখার মতো সমস্যা দূর করে এবং সৌন্দর্য ধরে রাখতে সাহায্য করে। দই এবং বেসন এর এই ফেসপ্যাক ত্বকের তারুণ্য বজায় রাখে।

আরো পড়ুনঃ টক দই খাওয়ার উপকারিতা ও অপকারিতা এবং নিয়ম

৭. ডিম এবং বেসনের ফেসপ্যাক

উপাদান:

  • একটি ডিম
  • দুই চা চামচ বেসন
  • আধা চা চামচ মধু

প্রক্রিয়া:

  1. একটি ডিম ফাটিয়ে তার সাদা অংশ আলাদা করুন।
  2. ফেনা তৈরি না হওয়া পর্যন্ত এই সাদা অংশটি বিট করুন।
  3. এবার এতে বেসন ও মধু মেশান।
  4. এই পেস্টটি আপনার মুখে লাগান এবং ১০-১৫ মিনিট পর পরিষ্কার পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন।
  5. সপ্তাহে দুবার এই ফেসপ্যাকটি ব্যবহার করুন।

কিভাবে এটা কাজ করে:

ডিমের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হল প্রোটিন। একটি বৈজ্ঞানিক গবেষণা অনুসারে, প্রোটিন ত্বককে সুস্থ ও সুন্দর রাখতে সাহায্য করে।

দ্রষ্টব্য: কিছু লোকের ডিম এ অ্যালার্জি হতে পারে। তাই ব্যবহার করার আগে একবার প্যাচ টেস্ট করে নিন।

আরো পড়ুনঃ ডিম খাওয়ার উপকারিতা ও অপকারিতা, ত্বকের জন্য মধুর উপকারিতা

৮. বেসন এবং গ্রিন টির ফেসপ্যাক

উপাদান:

  • দুই চা চামচ বেসন
  • একটি সবুজ চা ব্যাগ
  • এক কাপ হালকা গরম পানি

প্রক্রিয়া:

  1. একটি গ্রিন টি ব্যাগ এক কাপ কুসুম গরম পানিতে পাঁচ মিনিট রেখে দিন।
  2. পাঁচ মিনিট পর ব্যাগটি সরিয়ে ফেলুন।
  3. একটি পাত্রে বেসন নিন এবং প্রয়োজনমতো গ্রিন টির পানি যোগ করে পেস্ট তৈরি করুন।
  4. এই পেস্টের একটি পাতলা স্তর মুখে লাগান এবং ১০-১৫ মিনিট পর পরিষ্কার পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন।
  5. সপ্তাহে দুবার এই ফেসপ্যাকটি ব্যবহার করুন।

কিভাবে এটা কাজ করে:

গ্রিনটি তে অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট বৈশিষ্ট্য পাওয়া যায়। গ্রিনটির সাথে বেসন প্রয়োগের সুবিধা হল যে এতে উপস্থিত অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট বৈশিষ্ট্যগুলো আপনার ত্বককে অকাল পিগমেন্টেশন, বলিরেখা এবং বিবর্ণতা থেকে রক্ষা করতে সাহায্য করে।

৯. বেসন এবং নিমের ফেসপ্যাক

উপাদান:

  • এক চা চামচ নিমের গুঁড়া
  • এক চা চামচ বেসন
  • এক চা চামচ দই বা গোলাপ জল

প্রক্রিয়া:

  1. একটি পাত্রে সব উপকরণ মিশিয়ে পেস্ট তৈরি করুন।
  2. এই পেস্ট মুখে লাগান।
  3. পুরোপুরি শুকিয়ে গেলে হালকা গরম পানি দিয়ে মুখ ধুয়ে ফেলুন।
  4. সপ্তাহে দুবার এই ফেসপ্যাকটি ব্যবহার করুন।

কিভাবে এটা কাজ করে:

নিম এবং বেসনের ফেসপ্যাক মুখের বলিরেখা দূর করতে সাহায্য করে। নিমে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট প্রপার্টিজ আছে যা ত্বকের বার্ধক্য কমাতেও সাহায্য করে।

আরো পড়ুনঃ নিম পাতার উপকারিতা ও অপকারিতা, রূপচর্চায় নিম তেলের উপকারিতা

১০. বেসন এবং মধুর ফেসপ্যাক

উপাদান:

  • দুই চা চামচ বেসন
  • এক চা চামচ মধু

প্রক্রিয়া:

  1. মাইক্রোওয়েভে ১০ সেকেন্ডের জন্য মধু গরম করুন। খেয়াল রাখবেন মধু যেন বেশি গরম না হয়।
  2. এবার এই মধুতে দুই চা চামচ বেসন মিশিয়ে নিন।
  3. এই পেস্ট মুখে লাগান।
  4. পেস্ট ভালো করে শুকিয়ে গেলে হালকা গরম পানি দিয়ে মুখ ধুয়ে ফেলুন। সপ্তাহে দুবার এই ফেসপ্যাকটি ব্যবহার করুন।

কিভাবে এটা কাজ করে:

মধুতে পাওয়া ভিটামিন ও মিনারেল ত্বকের সৌন্দর্য ও তারুণ্য ধরে রাখতে সাহায্য করে। এর বৈশিষ্ট্যগুলি ত্বকের আর্দ্রতা এবং পিএইচ ভারসাম্য বজায় রাখে এবং ত্বকে ব্রণ হওয়ার সম্ভাবনা কমিয়ে দেয়। এই ফেসপ্যাক মুখের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধিতেও সহায়তা করে।

১১. লেবুর রস এবং বেসনের ফেসপ্যাক

উপাদান:

  • দুই চা চামচ বেসন
  • এক দুই ফোটা লেবুর রস
  • এক চা চামচ দই
  • এক চিমটি হলুদ

প্রক্রিয়া:

  1. একটি পাত্রে সব উপকরণ ভালো করে মিশিয়ে নিন।
  2. এই প্যাক মুখে লাগান।
  3. ২০ মিনিট পর কুসুম গরম পানি দিয়ে মুখ ধুয়ে ফেলুন।
  4. সপ্তাহে দুবার এই ফেসপ্যাকটি ব্যবহার করুন।

কিভাবে এটা কাজ করে:

লেবুর রসে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন-সি পাওয়া যায়। ভিটামিন-সি বার্ধক্যের প্রভাব কমায়, সেইসাথে ইউভি রশ্মির ক্ষতি থেকে ত্বককে রক্ষা করে এবং ত্বকের আর্দ্রতা বজায় রাখে। এভাবে লেবু ও বেসন দিয়ে বানানো ফেসপ্যাক লাগালে দ্বিগুণ উপকার পাওয়া যায়।কিন্তু সেক্ষেত্রে অবশ্যই লক্ষ রাখতে হবে সবার ত্বকে লেবু এডজাস্ট নাও হতে পারে।তাই লেবুর যেকোনো ফেসপ্যাক ব্যবহার এর পূর্বে অবশ্যই প্যাচ টেস্ট করে নিতে হবে।

আরো পড়ুনঃ লেবুর উপকারিতা ও অপকারিতা

১২. বেসন এবং বেকিং সোডা ফেসপ্যাক

উপাদান:

  • দুই টেবিল চামচ বেসন
  • এক চা চামচ বেকিং সোডা
  • জল এক চতুর্থাংশ কাপ
  • এক চিমটি হলুদ

প্রক্রিয়া:

  1. প্রথমে পানিতে বেকিং সোডা মিশিয়ে ভালো করে গলতে দিন।
  2. এবার একটি পাত্রে দুই টেবিল চামচ বেসন ও এক চিমটি হলুদ মিশিয়ে নিন।
  3. বেসনের মধ্যে প্রয়োজন মতো বেকিং সোডা আর পানি মিশিয়ে পেস্ট তৈরি করুন।
  4. এই প্যাকটি মুখে ১০-১২ মিনিটের জন্য লাগিয়ে রাখুন এবং তারপর পরিষ্কার পানি দিয়ে মুখ ধুয়ে ফেলুন।

কিভাবে এটা কাজ করে:

বেকিং সোডায় অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়াল বৈশিষ্ট্য রয়েছে , যা জীবাণুর বিরুদ্ধে লড়াই করে ব্রণ এবং পিম্পলের মতো ত্বকের নানা সমস্যাকে প্রতিরোধ করতে পারে।

দ্রষ্টব্য: বেকিং সোডা সবার ত্বকে মানায় না। এটি প্রয়োগ করলে চুলকানি, জ্বালাপোড়া বা ফুসকুড়ি হতে পারে। অতএব, এই প্যাকটি প্রয়োগ করার আগে, একজন চর্মরোগ বিশেষজ্ঞের সাথে পরামর্শ করুন এবং একটি প্যাচ টেস্ট করে নিন।

১৩. বেসন এবং গোলাপ জলের ফেসপ্যাক

উপাদান:

  • দুই চা চামচ বেসন
  • দুই থেকে তিন চামচ গোলাপ জল

প্রক্রিয়া:

  1. উভয় উপাদান ভালো করে মিশিয়ে পেস্ট তৈরি করুন।
  2. এই পেস্টটি মুখে এবং ঘাড়ে লাগিয়ে ২০ মিনিট রেখে দিন।
  3. পুরোপুরি শুকিয়ে গেলে ঠান্ডা পানি দিয়ে মুখ ধুয়ে ফেলুন।
  4. অবশেষে, একটি তোয়ালে দিয়ে মুখ মুছে ময়েশ্চারাইজিং ক্রিম লাগান।
  5. ভালো ফলাফলের জন্য সপ্তাহে দুবার এই ফেসপ্যাকটি ব্যবহার করুন।

কিভাবে এটা কাজ করে:

গোলাপ জল এবং বেসনের ফেসপ্যাক মুখের দাগ এবং ব্রণ দূর করতে সাহায্য করে। গোলাপ জলে অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়াল বৈশিষ্ট্য পাওয়া যায় যা ব্রণ সৃষ্টিকারী ব্যাকটেরিয়ার বিরুদ্ধে লড়াই করে ত্বককে সুন্দর এবং দাগহীন করে।

আরো পড়ুনঃ ব্রণ দূর করার উপায়, ব্রণ কেন হয় এবং ব্রণ হলে করণীয়, সহজে ব্রণের দাগ দূর করার উপায়

১৪. বেসন এবং দুধের ফেসপ্যাক

উপাদান:

  • দুই চা চামচ বেসন
  • ২ টেবিল চামচ দুধ বা ক্রিম

প্রক্রিয়া:

  1. একটি পাত্রে বেসন এবং দুধ বা ক্রিম মিশিয়ে পেস্ট তৈরি করুন।
  2. এই পেস্টটি মুখে লাগিয়ে ১৫-২০ মিনিট রাখুন।
  3. ১৫-২০ মিনিট পর ঠান্ডা পানি দিয়ে মুখ ধুয়ে ফেলুন।
  4. প্রতি সপ্তাহে একবার এই ফেসপ্যাকটি ব্যবহার করুন।

কিভাবে এটা কাজ করে:

দুধ/ক্রিম এবং বেসন-এর ফেসপ্যাক ন্যাচারাল স্ক্রাব হিসেবে কাজ করে। গবেষণা অনুসারে, বেসন এর স্ক্রাব ব্যবহার এর মাধ্যমে মৃত কোষ দূর হয় এবং ত্বকের রং উজ্জ্বল হয়। দুধ ত্বকের কালো দাগ ও হোয়াইটহেডস দূর করতেও সাহায্য করে। এর পাশাপাশি, এটি মুখ থেকে সানটান দূর করতেও সাহায্য করে।

আরো পড়ুনঃ ব্ল্যাকহেডস এবং হোয়াইটহেডস দূর করার উপায়, চোখের নিচের কালো দাগ দূর করার উপায়

১৫. বেসন এক্সফোলিয়েটিং ফেসপ্যাক

উপাদান:

  • দুই চা চামচ বেসন
  • পানি

প্রক্রিয়া:

  1. একটি পাত্রে দুই চা চামচ বেসন নিন এবং প্রয়োজনমতো পানি যোগ করে ঘন পেস্ট তৈরি করুন।
  2. পেস্টটি মুখে লাগান এবং কমপক্ষে ১০-১২ মিনিট ম্যাসাজ করুন। ম্যাসাজ করার সময় অবশ্যই খুব আলতো হাতে আপওয়ার্ড মোশন বা ঊর্ধ্বমুখী বৃত্তাকার পজিশন অনুসারে করুন। কখনোই নিচের দিকে ত্বককে টানবেন না।
  3. যদি স্ক্রাবটি মুখে শুকিয়ে যেতে শুরু করে তবে আপনার আঙ্গুলগুলি জলে ভিজিয়ে তারপর পুনরায় ম্যাসাজ করুন।
  4. ১০-১২ মিনিট ম্যাসাজ করার পর ঠাণ্ডা পানি দিয়ে মুখ ধুয়ে ফেলুন।
  5. সপ্তাহে দুবার এই ফেসপ্যাকটি ব্যবহার করুন।

কিভাবে এটা কাজ করে:

মুখে বেসন লাগানোর সুবিধা হল যে বেসন আপনার ত্বকে হালকা এক্সফোলিয়েটর হিসাবে কাজ করে। এটি আপনার ত্বক থেকে মৃত কোষের স্তর অপসারণ করে এবং ত্বককে নরম করে তোলে।

দ্রষ্টব্য: যদিও উপরে উল্লিখিত সমস্ত ফেসপ্যাক প্রাকৃতিক, তবে সেগুলি ব্যবহারের আগে একবার প্যাচ টেস্ট করে নিন। সারা মুখে লাগানোর আগে হাতের সামান্য অংশে লাগান। আপনি যদি সেগুলি প্রয়োগ করার পরে চুলকানি বা জ্বালা অনুভব করেন তবে সেগুলি ব্যবহার করবেন না।

আরো পড়ুনঃ কিভাবে আপনার ত্বককে সঠিক উপায়ে এক্সফোলিয়েট করবেন?

বেসন এর ফেসপ্যাক ব্যবহার করার জন্য আরও কিছু টিপস

যেকোনো ফেসপ্যাক লাগানোর আগে পানি দিয়ে মুখ ভালো করে ধুয়ে নিন। প্যাকটি লাগানোর আগে নিশ্চিত হয়ে নিন যে মুখ পুরোপুরি পরিষ্কার হয়েছে।

মনে রাখবেন যে কোনো ফেসপ্যাক লাগানো অবস্থায় ঘর থেকে বের হবেন না। এতে করে মুখে ধুলাবালি লেগে যেতে পারে এবং ফেসপ্যাকের প্রভাব কমতে পারে।

মুখ ধোয়ার পর তোয়ালে দিয়ে ঘষে মুখ মুছবেন না। এটি আপনার ত্বককে শুষ্ক করে তুলবে। রুমাল বা তোয়ালে বা টিস্যু ব্যবহার করে মুখ মুছার সময় হালকা চাপ দিয়ে শুধু পানি অপসারণ করুন।

মুখ ধোয়ার পর মুখে ময়েশ্চারাইজার লাগান। এক্সফোলিয়েটিং মুখের ছিদ্র খুলে দেয়। তখন সিরাম, টোনার বা ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করলে সেগুলো সহজেই ত্বকে প্রবেশ করে ত্বকের আর্দ্রতা বজায় রাখতে রাখতে সাহায্য করে।

আপনি যদি এই সকল প্যাকগুলো ব্রণের মতো কোনও নির্দিষ্ট সমস্যা প্রতিরোধ করতে ব্যবহার করেন তবে ব্যবহার করার আগে আপনার চর্মরোগ বিশেষজ্ঞের সাথে পরামর্শ করে নিন।

এবার আপনি নিশ্চয়ই জেনে গেছেন মুখে বেসন লাগানোর উপকারিতা। আপনি কি কখনও ভেবে দেখেছেন যে আপনার রান্নাঘরে রাখা বেসন আপনার জন্য এতটা উপকারী হতে পারে। এখন যেকোনো অনুষ্ঠান বা বিয়ের জন্য পার্লারে হাজার হাজার টাকা খরচ করার পরিবর্তে, আপনি উপরে উল্লিখিত যেকোন বেসন ফেস প্যাকটি গ্রহণ করতে পারেন। এরকম আরও বিউটি টিপস জানতে আপনি আমাদের অন্যান্য আর্টিকেল পড়তে পারেন।

আরো পড়ুনঃ

5/5 - (12 votes)

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Back to top button