প্রেগন্যান্সি

গর্ভাবস্থায় কি গুড় খাওয়া উচিত

গর্ভাবস্থায়, গর্ভবতী নিজের সম্পূর্ণ যত্ন নিতে হয় যাতে ছোট্ট অতিথিটি কোন স্বাস্থ্য সমস্যায় না পড়ে। এ সময় খাবার ও পানীয়ের প্রতি বিশেষ যত্ন নিতে হয়। গর্ভাবস্থায় ফলমূল এবং শাকসবজি ছাড়াও, অন্যান্য অনেক পুষ্টিসমৃদ্ধ খাবার খাওয়া প্রয়োজনীয়, যার মধ্যে গুড়েরও উল্লেখ রয়েছে। তবে, গর্ভাবস্থায় গুড় খাওয়া উচিত কিনা তা একটি বড় প্রশ্ন হতে পারে। এই পোস্ট থেকে জেনে নিন গর্ভাবস্থায় গুড় খাওয়া কতটা নিরাপদ এবং এর স্বাস্থ্য উপকারিতা কী।

গর্ভাবস্থায় গুড় খাওয়া উচিত কিনা?

হ্যাঁ, গর্ভাবস্থায় গুড় খাওয়ার অনেক স্বাস্থ্য উপকারিতা আছে। প্রকৃতপক্ষে, এই সময়ে গর্ভবতী মহিলা এবং গর্ভে বেড়ে ওঠা ভ্রূণের আয়রন প্রয়োজন এবং গর্ভাবস্থায় লৌহ পূরণের জন্য গুড় খাওয়া যায়। তবে এটি সীমিত পরিমাণে খাওয়া উচিত।

গর্ভাবস্থায় কত পরিমাণ গুড় খাওয়া উচিত?

গর্ভাবস্থায় গুড় খাওয়ার পরিমাণের দিকেও মনোযোগ দেওয়া গুরুত্বপূর্ণ, যাতে এটি গর্ভবতী এবং ভ্রূণের জন্য উপকারী হয়। গর্ভাবস্থার পর, বুকের দুধ খাওয়ানোর সময় প্রতিদিন প্রায় ৬০ গ্রাম গুড় খাওয়া যায়। গর্ভাবস্থায় কতটা গুড় খাওয়া উচিত সে সম্পর্কে কোন বৈজ্ঞানিক প্রমাণ পাওয়া যায় না। অতএব, গর্ভাবস্থায় গুড় উপযুক্ত পরিমাণে খাওয়ার আগে একজন ডাক্তারের সাথে পরামর্শ করা উচিত।

গর্ভাবস্থায় কখন গুড় খাওয়া উচিত?
গর্ভাবস্থার প্রথম দুই ত্রৈমাসিকে, মায়ের আরও আয়রন প্রয়োজন হয়। কারণ, এ সময় রক্তস্বল্পতার ঝুঁকি বেশি থাকে। অতএব, গর্ভবতী মহিলারা লৌহের প্রয়োজনীয়তা বিবেচনা করে গুড় খাওয়া শুরু করতে পারেন। প্রথম ত্রৈমাসিকে আয়রন টেবলেট গ্রহণ করা উচিত নয়, কারণ এটি বমি বমি ভাব এবং বমিও হতে পারে। অতএব, গর্ভাবস্থায় গুড় খাওয়ার সঠিক সময় সম্পর্কে তথ্যের জন্য একবার ডাক্তারের সাথে পরামর্শ করা উচিত।

গুড়ের পুষ্টিগুণ
নিচের টেবিলের মাধ্যমে আমরা গুড়ের পুষ্টিগুণ সম্পর্কে বলছি।

গুড়ের পুষ্টি উপাদান প্রতি ১০০ গ্রাম পরিমাণে-

শক্তি ৩৭৫ কিলোক্যালরি
কার্বোহাইড্রেট ১০০ গ্রাম
চিনি ১০০ গ্রাম
আয়রন ২.৫৭ মিলিগ্রাম
সোডিয়াম ২৫০ মিলিগ্রাম

গর্ভাবস্থায় গুড় খাওয়ার উপকারিতা

গর্ভাবস্থায় গুড় খেলে নিম্নলিখিত উপকার হবেঃ

আয়রনের ঘাটতি দূর করতে : গর্ভাবস্থায় আয়রনের ঘাটতির জন্য গুড় খাওয়া যায়। গর্ভাবস্থায় গুড় খাওয়া রক্তসল্পতার ঝুঁকি দূর করতে সাহায্য করে।
শিশুর মস্তিষ্কের বিকাশের জন্য : গর্ভাবস্থায় গুড় খাওয়া আপনার শিশুর জন্য উপকারী। কারণ গুড়ের মধ্যে পর্যাপ্ত পরিমাণে কার্বোহাইড্রেট পাওয়া যায়। আর গর্ভে শিশুর বিকাশের জন্য কার্বোহাইড্রেট অপরিহার্য।
শক্তি সরবরাহের জন্য : গর্ভাবস্থার দ্বিতীয় এবং তৃতীয় ত্রৈমাসিকে, মায়ের শক্তি প্রয়োজন। অতএব, পর্যাপ্ত শক্তি সরবরাহের জন্য গর্ভাবস্থায় গুড় খাওয়া যাবে।
টাইপ-1 ডায়াবেটিসের ক্ষেত্রে : গুড়ের মধ্যে উপস্থিত কার্বোহাইড্রেট গর্ভাবস্থায় টাইপ 1 ডায়াবেটিসে আক্রান্ত মহিলাদের জন্য উপকারী।

গর্ভাবস্থায় গুড় খাওয়ার পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া

গর্ভাবস্থায় গুড় খাওয়ার সাথে সম্পর্কিত কিছু বিশেষ জিনিসের যত্ন নেওয়া প্রয়োজন। গর্ভাবস্থায় গুড় খাওয়ার নিম্নলিখিত পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হতে পারে-

১. গর্ভাবস্থায় গুড় খেলে শরীরে চিনির পরিমাণ বাড়তে পারে, যার ফলে ওজন বাড়ে এবং ওজন বেড়ে গেলে টাইপ-২ ডায়াবেটিস হওয়ার ঝুঁকি বেড়ে যায়।
২. গুড়ের মধ্যে সোডিয়ামের পরিমাণ পাওয়া যায়, যা অতিরিক্ত সেবনে উচ্চ রক্তচাপের ঝুঁকি বাড়ে।
৩. গর্ভাবস্থায় বেশি গুড় খেলে শরীরে কার্বোহাইড্রেটের পরিমাণ বাড়বে, যা ওজন বাড়ায়।
৪. গুড়কে গরম করে খাওয়া যাবে না, অন্যথায় এটি গর্ভপাত ঘটাতে পারে। আপনি যদি আগে গর্ভপাত করে থাকেন, তাহলে বর্তমান গর্ভাবস্থায় আপনার গুড় খাওয়া উচিত নয়।

আরো পড়ুনঃ-

ডায়াবেটিস রোগীর খাদ্য তালিকা ডায়েট চার্ট ও প্ল্যান, গর্ভাবস্থায় ডায়াবেটিস এর লক্ষন, কারণ, ঝুকি ও করনীয়

গর্ভাবস্থায় গুড় খাওয়ার সময় নিচের বিষয়গুলো মাথায় রাখা জরুরি

১. গুড় খাওয়ার আগে খেয়াল রাখবেন এতে যেন কোনো ধুলো/মাটির কণা না থাকে, কারণ গুড় তৈরি করার সময় প্রায়ই গুড়ের মধ্যে ময়লা থেকে যায়।
. গুড় খাওয়ার আগে দেখে নিন আঠালো কিনা। তাছাড়া, আপনি যদি বাজার থেকে এমনগুড় কিনে থাকেন, যার উপর মাছি বসেছিল, তবে এটি খাওয়া আপনার স্বাস্থ্যের ক্ষতি করতে পারে। তাই খোলা জায়গায় বিক্রি করা গুড়ের বদলে প্যাকেট গুড় কিনতে পারেন। এছাড়াও প্যাকেটের গায়ে গুড়ের মেয়াদ শেষ হওয়ার তারিখ দেখতে ভুলবেন না।
গর্ভাবস্থায় খাদ্যতালিকায় গুড় কীভাবে অন্তর্ভুক্ত করা যায়?
আপনি গর্ভাবস্থায় আপনার খাদ্যতালিকায় গুড় অন্তর্ভুক্ত করতে পারেন যেভাবে :-

  • সরাসরি গুড় খেতে পারেন।
  • চায়ে চিনির জায়গায় গুড় ব্যবহার করা যেতে পারে।
  • গুড়ের শরবত তৈরি করে খেতে পারেন।
  • গুড়, ছানা বা গুড়ের চিক্কি খেতে পারেন।
  • গুড় দিয়ে তৈরি খিরও খাওয়া যেতে পারে।
  • ময়দার সঙ্গে গুড় মিশিয়ে গুড়ের আটার পাপড়ি তৈরি করা যায়।

সচরাচর জিজ্ঞাস্য

আমি কি গর্ভাবস্থার প্রথম দিকে গুড় খেতে পারি?

না, গর্ভাবস্থার প্রথম দিকে (প্রথম ত্রৈমাসিক) গুড়ের সাথে আয়রন পরিপূরক হতে পারে। তাই প্রথম দিকে গুড় সেবন না করাই ভালো হবে।

গর্ভাবস্থায় গুড় খেলে কি শিশুর জন্মের ওজন কমতে পারে?

না, গর্ভাবস্থায় গুড় খেলে শিশুর জন্মের ওজনের ওপর কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হয় না। প্রকৃতপক্ষে, একটি মেডিকেল রিপোর্টে বলা হয়েছে, যে কোন খাদ্য সামগ্রী গ্রহণ শিশুর জন্মের ওজনকে প্রভাবিত করে না।

এখন আপনি বুঝতে পারলেন যে, গর্ভাবস্থায় কীভাবে গুড় খাওয়া যায়, যা মা এবং শিশু উভয়ের জন্যই উপকারী হবে। তবে এটি খাওয়ার সময় আপনাকে কিছু সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। আমরা আশা করি আপনি এই লেখায় দেওয়া তথ্য থেকে অবশ্যই উপকৃত হবেন।

আরো পড়ুনঃ-

Rate this post

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Back to top button